মৌসুমী সংক্রমণ না কি অ্যালার্জি? যেভাবে বুঝবেন

আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০২:১৫:৪৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০২:১৮:১১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাক দিয়ে পানি পড়া, বারবার হাঁচি আসা এবং চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যা হলে অনেকেই সর্দির ওষুধ খাওয়ার কথা ভাবেন। কিন্তু যদি এই লক্ষণগুলোর কারণ সর্দি না হয়ে অন্য কিছু হয়? অনেক সময় যাকে মৌসুমী সংক্রমণ বলে মনে হয়, তা আসলে একটি অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এই বিভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক, কারণ উভয় অবস্থাতেই নাক ও শ্বাসতন্ত্র আক্রান্ত হয়। তবে এদের কারণ, স্থায়িত্বকাল এবং আনুষঙ্গিক লক্ষণগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। এই পার্থক্যগুলো বুঝতে পারলে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা যায় এবং সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়। সাধারণ সর্দি হলো ঊর্ধ্ব শ্বাসতন্ত্রের একটি ভাইরাল সংক্রমণ। ২০০টিরও বেশি ভাইরাস এর কারণ হতে পারে। সাধারণত প্রথম দুই-তিন দিন

লক্ষণগুলো তীব্র থাকে এবং এরপর ধীরে ধীরে উন্নতি হতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ সর্দি সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়। অন্যদিকে, অ্যালার্জি তখনই হয় যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউন সিস্টেম) সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন কোনো উপাদানের প্রতি অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায়। এর মধ্যে রয়েছে ধূলিকণায় থাকা ক্ষুদ্র জীবাণু (ডাস্ট মাইট), পরাগরেণু, মোল্ড (ছত্রাকজাতীয় অণুজীব) এবং পোষা প্রাণীর গায়ের মৃত কোষ বা লোম। অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা অ্যালার্জিজনিত সর্দি ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে পারে, যতক্ষণ একজন ব্যক্তি সেই অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শে থাকেন। কী কারণে অ্যালার্জি হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে, এর লক্ষণগুলো মৌসুমী হতে পারে অথবা সারা বছর ধরেও থাকতে পারে। ক্রমাগত হাঁচি এবং নাকে চুলকানি অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই হাঁচি হতে পারে, তবে হাঁচির ধরন দেখে পার্থক্য বোঝা সম্ভব। অ্যালার্জির ক্ষেত্রে প্রায়শই বারবার হাঁচি আসে, বিশেষ করে ধুলোবালি, পরাগরেণু বা পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে এলে। নাক, গলা বা চোখে চুলকানি হওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। অ্যালার্জির অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো একটানা হাঁচি আসা। অন্যদিকে, সাধারণ সর্দির ক্ষেত্রে গলা ব্যথা, কাশি এবং ক্লান্তির মতো অন্যান্য লক্ষণগুলো দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নাক দিয়ে কী ধরনের নিঃসরণ হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখুন বিজ্ঞাপন যদি নাক দিয়ে বেশ কয়েক দিন ধরে জলীয় ও স্বচ্ছ তরল নিঃসরণ হতে থাকে, বিশেষ করে তার সঙ্গে যদি চুলকানি ও হাঁচি থাকে তবে তা অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে। যতক্ষণ একজন ব্যক্তি অ্যালার্জেন বা অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানের সংস্পর্শে থাকেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের নিঃসরণ চলতে পারে। সাধারণ সর্দি-কাশির কারণেও নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে, তবে সংক্রমণের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া বা শ্লেষ্মার ঘনত্বের পরিবর্তন ঘটতে পারে। সুতরাং, কেবল নাক দিয়ে নিঃসরণ দেখে অ্যালার্জি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। জ্বর ও শরীরে ব্যথা অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত সাধারণত অ্যালার্জির কারণে জ্বর বা শরীরে ব্যথা হয় না; এই লক্ষণগুলো সাধারণত ভাইরাল সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত। তবে নাকের চুলকানি ও বারবার হাঁচির পাশাপাশি যদি চোখ লাল হয়ে যায় বা চোখ দিয়ে পানি পড়ে, তবে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এটি অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লক্ষণগুলো কখন দেখা দিচ্ছে। ঘর পরিষ্কার করার সময়, ধুলোবালিযুক্ত স্থানে গেলে, পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে থাকলে বা বছরের নির্দিষ্ট কোনো সময়ে যদি বারবার এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে তা পরিবেশগত অ্যালার্জির ইঙ্গিত হতে পারে। কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত? বারবার দেখা দেওয়া লক্ষণগুলোকে কেবল সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। যদি হাঁচি, নাক বন্ধ থাকা বা চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যাগুলো আপনার ঘুম ও দৈনন্দিন স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে অ্যালার্জি শনাক্ত করা সম্ভব নয়, কারণ এগুলোকে সহজেই ভাইরাল সংক্রমণ বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হতে পারে। যদি

লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়, বিশেষ করে দুই সপ্তাহের মধ্যেও যদি কোনো উন্নতি না হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। শ্বাসকষ্ট, পানিশূন্যতা এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বর থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। লক্ষণ ও তার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসকরা অ্যালার্জি পরীক্ষা বা মূল্যায়নের পরামর্শ দিতে পারেন। সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে নিয়মিত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা উচিত নয়, কারণ ভাইরাল সংক্রমণের ওপর অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]