১০০ টন প্যারাসিটামল কাঁচামালের মান পরীক্ষার প্রতিবেদন পরিবর্তন এবং টেন্ডার নং ৮৭-এ ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ

সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান EDCL-এ অনিয়মের অভিযোগ

আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০১:৫৫:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০১:৫৫:০৪ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে (EDCL) কাঁচামাল ক্রয় ও টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, কারসাজি এবং আর্থিক ক্ষতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদন করেছেন পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানানো এক নাগরিক।

গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করা অভিযোগপত্রে প্যারাসিটামল বিপি কাঁচামাল ক্রয়, গ্লাস ভায়াল সরবরাহের টেন্ডার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, M/s Pharhome Trading Company-এর সরবরাহ করা ১০০ টন প্যারাসিটামল বিপি কাঁচামালের পরীক্ষায় মানের ঘাটতি পাওয়া যায়। পরে EDCL-এর মান নিয়ন্ত্রণ (QC) বিভাগ কাঁচামালটি বাতিল করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর পর আগের নেতিবাচক পরীক্ষার প্রতিবেদন বাতিল করে নতুন প্রতিবেদন তৈরি করা হয় এবং কাঁচামালটিকে উত্তীর্ণ হিসেবে দেখানো হয়। এরপর দ্রুত ওই কাঁচামাল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়। অভিযোগটি সত্য হলে সরকারি ওষুধের গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, টেন্ডার নম্বর ৮৭-এর গ্লাস ভায়াল ক্রয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উন্মুক্ত দরপত্রে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কারিগরি মূল্যায়নে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা অনুমোদিত ও বৈধ এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নমুনা অনুত্তীর্ণ হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বৈধ প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে কয়েকটিকে বাদ দিয়ে শুধু M/s Marks Corporation-এর আর্থিক প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়। এতে প্রতিযোগিতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এ ঘটনায় সরকারের আনুমানিক ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতি নির্ধারণে দরপত্রের নথি, বাজারদর ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন যাচাই করা প্রয়োজন।

এছাড়া টেন্ডার নম্বর ৩১/২০২৫-এর Desogestrel USP ক্রয়সংক্রান্ত বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান কাজ না পাওয়ার পর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তাঁর একান্ত সচিবকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে ক্রয়প্রক্রিয়ার কোনো প্রভাব বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অভিযোগ অনুযায়ী, উপরোক্ত অনিয়মগুলোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের জনাব ইসমাইল হোসেন (QC GM), শ্রীমান ভুবন কুমার দে (Procurement DGM), জনাব দেলোয়ার হোসেন (QC Officer) এবং জনাব জুয়েল (Purchase Officer)। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের ভূমিকাও তদন্তে আসা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য যে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলেতো বটেই, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান [BNP] সরকারের আমলেও উপরোক্ত ব্যক্তিরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাবেক ছাত্রনেতা বাহাদুর বেপারীর ভাগিনা (M/s. Marks Corporation-এর কর্ণধার)-এর সঙ্গে যোগসাজশে টেন্ডার দুর্নীতি, কারসাজি, কারচুপি, অপকৌশল ও বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর অনেক নজির আছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে যে, EDCL-এর উপরোক্ত ব্যক্তিগণ তাদের প্রাপ্ত মাসিক বেতন ও তাদের লাইফস্টাইল সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জনাব ইসমাইল হোসেন (QC GM) ও জনাব দেলোয়ার হোসেন (QC Officer) উভয়েরই ঢাকা শহরে একাধিক ফ্ল্যাট আছে এবং তাদের সন্তানরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। অপরজন শ্রীমান ভুবন কুমার দে (Procurement DGM)-এর ভাইয়ের সঙ্গে শেয়ারে নিজস্ব অর্থের একটি স্বর্ণের দোকান আছে [বসুন্ধরা]। এ ছাড়া নামে-বেনামে সম্পত্তি আছে বাংলাদেশ ও ভারতে।

এও জানা গেছে যে, টেন্ডার নম্বর ৮৭ (গ্লাস ভায়াল) সংক্রান্ত অনিয়মে M/s. Marks Corporation-কে প্রতিযোগিতা ছাড়া একক দরপত্রে কাজ দেওয়ায় সরকার বাজারদরের চেয়ে বেশি মূল্যে কেনাকাটা করতে বাধ্য হয়েছে, যার আনুমানিক অতিরিক্ত ব্যয় ২.৫০ কোটি থেকে ৩.০০ কোটি টাকা। এই অতিরিক্ত ব্যয় আসন্ন ডিসেম্বরে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যে নীল-নকশা ফ্যাসিস্ট দোসররা করেছে, তাদের এ কাজে অর্থায়নেও EDCL-এর উপরোক্ত ব্যক্তিগণের সম্পৃক্ততা আঁচ করা গেছে।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]