পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে এক ভাই ও তিন বোনকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১২ জনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করেছেন মোসা. লাভলী বেগম ও জাহিদুল আলমসহ চারজন। তবে আদালতের নির্দেশে ভূমি অফিসের করা তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ঘটনাটি পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের পুখরিয়া
এলাকার।
আদালতে দাখিল করা মামলার তথ্য অনুযায়ী, মৃত আনোয়ার আলী খান ১৯৮৩ সালে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে যান। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা। অভিযোগকারী মো. জাহিদুল আলম ও তাঁর তিন বোনের দাবি, ২০১৩ সাল থেকে পরিবারের কয়েকজন সদস্য কৌশলে পৈতৃক সম্পত্তির বড় একটি অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। কলাখালী বাজারের জমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রি করা হলেও তাঁদের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তাঁদের বড় ভাই মো. খসরুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। আরেক ভাই খায়রুল আলম পলাশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলাখালী ইউনিয়নে দলটির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁদের। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পলাশ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেছেন। তাঁর ভয়ে তাঁরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেননি বলেও দাবি করেন অভিযোগকারীরা। এ ছাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েত উল্লাহর ওরফে মিস্টার বিরুদ্ধে তাঁদের ১৮ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় জমির দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করা হয়। মামলাটি এমপি মোকদ্দমা নম্বর ৩৮/২০২৬ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশে ১৪ মে ২০২৬ তারিখে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান
পিরোজপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আল-আমীন। পরে সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কলাখালী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আ. আলীমকে। গত ২ জুলাই বিরোধীয় সম্পত্তি পরিদর্শনের পর ৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুখরিয়া মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ১৯৮ ও ২৮৯-এর বিভিন্ন দাগের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সরেজমিনে বিরোধীয় জমিতে বিবাদীপক্ষের দ্বিতল পাকা ভবন, দোকান, গরুর খামার ও বাগান পাওয়া গেছে। বিবাদীপক্ষ প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে জমি ভোগদখল করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, বিরোধীয় জমিতে বাদীপক্ষের দখলে থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবাদীদের মাধ্যমে বাদীপক্ষকে বেদখল করার অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি। এ ছাড়া উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিকানা দাবি করলেও বাদীপক্ষ হালনাগাদ ওয়ারিশ সনদ দাখিল করেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিযোগকারী লাভলী বেগম। তাঁর দাবি, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আ. আলীম প্রতিবেদনটি তাঁদের পক্ষে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসে তিনি প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন। পরে জানতে পারেন, প্রতিবেদনটি বিবাদীদের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। লাভলী বেগম বলেন, ‘আমি পড়তে পারি না। আমাকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেদন সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানিয়েই তাঁকে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁদের বাবা বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রেখে গেছেন। ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন সম্পত্তি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বিভিন্ন কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বড় ভাই মো. খসরুল আলম অভিযোগ করেন, ছোট ভাই পলাশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ও অন্য ভাই-বোনদের জমি বিক্রি করেছেন। পলাশের ভয়ে তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না বলেও দাবি করেন। পরিবারের ছোট ভাই জাহিদুল আলম বলেন, ‘আমিসহ আমার তিন বোনের জমি গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। বোনদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে অন্য ভাইদের অনুরোধ করেও সাড়া পাইনি। নিজেদের অংশ চাইতে গেলে বোনদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে। পলাশের ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না।’ অভিযোগের বিষয়ে ভূমি উপসহকারী
কর্মকর্তা আ. আলীমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করতে নিষেধ করেন। অভিযুক্ত খায়রুল আলম পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সরাসরি দেখা করে কথা বলতে চান। তদন্তকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আল-আমীন বদলি হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পিরোজপুরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে এক ভাই ও তিন বোনকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১২ জনকে বিবাদী করে আদালতে মামলা করেছেন মোসা. লাভলী বেগম ও জাহিদুল আলমসহ চারজন। তবে আদালতের নির্দেশে ভূমি অফিসের করা তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ঘটনাটি পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের পুখরিয়া
এলাকার।
আদালতে দাখিল করা মামলার তথ্য অনুযায়ী, মৃত আনোয়ার আলী খান ১৯৮৩ সালে মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রেখে যান। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা। অভিযোগকারী মো. জাহিদুল আলম ও তাঁর তিন বোনের দাবি, ২০১৩ সাল থেকে পরিবারের কয়েকজন সদস্য কৌশলে পৈতৃক সম্পত্তির বড় একটি অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। কলাখালী বাজারের জমিসহ বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রি করা হলেও তাঁদের প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, তাঁদের বড় ভাই মো. খসরুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি চট্টগ্রামের খুলশী এলাকায় বসবাস শুরু করেন। আরেক ভাই খায়রুল আলম পলাশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কলাখালী ইউনিয়নে দলটির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁদের। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পলাশ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রি করেছেন। তাঁর ভয়ে তাঁরা নিজেদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেননি বলেও দাবি করেন অভিযোগকারীরা। এ ছাড়া সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েত উল্লাহর ওরফে মিস্টার বিরুদ্ধে তাঁদের ১৮ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। এ ঘটনায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় জমির দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করা হয়। মামলাটি এমপি মোকদ্দমা নম্বর ৩৮/২০২৬ হিসেবে আদালতে বিচারাধীন। আদালতের নির্দেশে ১৪ মে ২০২৬ তারিখে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান
পিরোজপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আল-আমীন। পরে সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় কলাখালী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আ. আলীমকে। গত ২ জুলাই বিরোধীয় সম্পত্তি পরিদর্শনের পর ৮ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুখরিয়া মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর ১৯৮ ও ২৮৯-এর বিভিন্ন দাগের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সরেজমিনে বিরোধীয় জমিতে বিবাদীপক্ষের দ্বিতল পাকা ভবন, দোকান, গরুর খামার ও বাগান পাওয়া গেছে। বিবাদীপক্ষ প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে জমি ভোগদখল করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, বিরোধীয় জমিতে বাদীপক্ষের দখলে থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিবাদীদের মাধ্যমে বাদীপক্ষকে বেদখল করার অভিযোগেরও সত্যতা মেলেনি। এ ছাড়া উত্তরাধিকারসূত্রে জমির মালিকানা দাবি করলেও বাদীপক্ষ হালনাগাদ ওয়ারিশ সনদ দাখিল করেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন অভিযোগকারী লাভলী বেগম। তাঁর দাবি, ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা আ. আলীম প্রতিবেদনটি তাঁদের পক্ষে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসে তিনি প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন। পরে জানতে পারেন, প্রতিবেদনটি বিবাদীদের পক্ষে দেওয়া হয়েছে। লাভলী বেগম বলেন, ‘আমি পড়তে পারি না। আমাকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।’ তাঁর অভিযোগ, প্রতিবেদন সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানিয়েই তাঁকে স্বাক্ষর করানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তাঁদের বাবা বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রেখে গেছেন। ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন সম্পত্তি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বিভিন্ন কাগজপত্র দেখিয়ে তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বড় ভাই মো. খসরুল আলম অভিযোগ করেন, ছোট ভাই পলাশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ও অন্য ভাই-বোনদের জমি বিক্রি করেছেন। পলাশের ভয়ে তিনি এলাকায় যেতে পারছেন না বলেও দাবি করেন। পরিবারের ছোট ভাই জাহিদুল আলম বলেন, ‘আমিসহ আমার তিন বোনের জমি গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। বোনদের প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে অন্য ভাইদের অনুরোধ করেও সাড়া পাইনি। নিজেদের অংশ চাইতে গেলে বোনদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে-মেয়ে বড় হয়েছে। পলাশের ভয়ে বাড়িতে যেতে পারছি না।’ অভিযোগের বিষয়ে ভূমি উপসহকারী
কর্মকর্তা আ. আলীমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করতে নিষেধ করেন। অভিযুক্ত খায়রুল আলম পলাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সরাসরি দেখা করে কথা বলতে চান। তদন্তকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আল-আমীন বদলি হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।