স্ত্রীকে না জানিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করা কি জায়েজ

আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৩:৪৪:২৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৩:৪৪:২৬ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্ত্রীকে না জানিয়ে কিংবা তার সম্মতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে কি না - এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত ও দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। আবার বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

 

ইসলামি শরিয়তের সাধারণ ফিকহি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া বা তাকে আগে থেকে জানানোকে বিয়ের বৈধতার শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। মিসরের সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দারুল ইফতার এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি বাধ্যতামূলক নয়।

 

তবে স্বামীকে দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক স্ত্রীর মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

ইসলামও একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের শর্ত আরোপ করেছে। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, দুই, তিন বা চারজন নারীকে বিয়ে করা যেতে পারে; তবে ন্যায়বিচার করতে না পারার আশঙ্কা থাকলে একজনকেই বিয়ে করতে হবে।

 

ইসলামওয়েবের একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করাকে শুধু এ কারণে অবৈধ বলা যায় না। তবে স্বামীকে একাধিক স্ত্রীর অধিকার ও প্রাপ্য বিষয়ে ন্যায়বিচার করতে হবে। এ ছাড়া বিয়ের চুক্তিতে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে না করার শর্ত দেওয়া থাকলে এবং স্বামী তা মেনে নিলে সেই শর্ত পালনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

ধর্মীয় বিধানের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ সালিশি পরিষদের (আরবিট্রেশন কাউন্সিল) লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া আরেকটি বিয়ে করতে পারবেন না।

 

এ অনুমতি পেতে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হয়। আবেদনে দ্বিতীয় বিয়ের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করতে হয়। এরপর সালিশি পরিষদ আবেদনকারী ও তার বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রতিনিধিদের বক্তব্য বিবেচনা করে বিয়েটি প্রয়োজনীয় ও ন্যায়সংগত মনে করলে অনুমতি দিতে পারে।

 

আইন অনুযায়ী, সালিশি পরিষদের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে স্বামীকে বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ বকেয়া দেনমোহর তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে। এ ছাড়া অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত হলে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।







 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]