চাঁদা তুলে খেলার মাঠ কিনল গ্রামবাসী, আরও জমি উপহার দেওয়ার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৮:২০:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৮:৪০:১৭ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থায়ী খেলার মাঠের দীর্ঘদিনের অভাব দূর করতে এক অনন্য ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ জমিয়ে তারা ৬০ শতাংশ জমি কিনে তৈরি করেছেন স্থায়ী খেলার মাঠ।

 

গ্রামের মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা নজর কেড়েছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলেরও। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মাঠের পাশের আরও ৬০ শতাংশ জমিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্রয় করে গ্রামবাসীকে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে দেলদুয়ারের জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বাবুপুর গ্রামের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে এবং গ্রামবাসীকে সংবর্ধিত করা হবে।

 

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘খেলার মাঠের জন্য বাবুপুর গ্রামের মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ ক্রীড়াঙ্গনে এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সরকার ও মন্ত্রণালয় সবসময় এমন ইতিবাচক ও স্ব-উদ্যোগী কাজকে উৎসাহ দিতে চায়। শিশু-কিশোরদের খেলার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা যদি এই গ্রামবাসীর পাশে থাকতে পারি, তা হবে বিশেষ কিছু।’

 

তিনি আরও বলেন, এটি কেবল একটি মাঠ তৈরি নয়, বরং সারাদেশের জন্য জনসম্পৃক্ততার এক দারুণ অনুপ্রেরণামূলক মডেল।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের বাস বাবুপুর গ্রামে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেখানে খেলাধুলার জন্য কোনো স্থায়ী মাঠ ছিল না। বর্ষা শেষে ধান কাটার পর সাময়িকভাবে ফাঁকা জমিতে শিশুরা খেলার সুযোগ পেলেও চাষাবাদ শুরু হলেই তা বন্ধ হয়ে যেত। এই সংকট মেটাতে গ্রামের ক্রীড়াব্যক্তিত্ব খোরশেদ আলম ও উদ্যোক্তা এস এম ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি মতবিনিময় সভা করেন গ্রামবাসী।

 

সেই সভাতেই জমি কিনে মাঠ করার সিদ্ধান্ত হয়। গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিত্তবানদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে একটি তহবিল। যার যার সাধ্যমতো ২০০, ৫০০, ১,০০০ থেকে শুরু করে ৫,০০০ ও ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দেন।

 

সব মিলিয়ে সংগৃহীত টাকা দিয়ে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকায় ৫৯ শতাংশ জমি কেনা হয়। আর এক শতাংশ জমি বিনা মূল্যে দান করেন জমির মালিক ইকবাল হোসেন। গত ২৯ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে গ্রামবাসীর কাছে এই মাঠ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

 





 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]