কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ
পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেনি অর্ধেকের কাছাকাছি শিক্ষার্থী। কেউ আবার জিপিএ-৫ পেয়ে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বাড়িয়েছে। এমন মিশ্র ফলাফলের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল। দুই পরীক্ষায় ১ হাজার ১২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫০৪ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৫৫ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার সাতটি কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৬৫ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক ০১
শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। কলেজগুলোর ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে সেন্ট মেরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০২ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে সাতজন। বিপরীতে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ঢালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র পাঁচজন। পাসের হার ২০ শতাংশ। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের ফলাফলও আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৫২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩১১ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। এ ছাড়া আজমতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৪৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জামালপুর কলেজে ২৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে একজন এবং জামালপুর কলেজ থেকে দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষায় সাতটি মাদ্রাসা থেকে ৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২৩ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। আলিম পরীক্ষায় বড়গাঁও বাইতুল আলিম মাদ্রাসা শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছাড়া জাঙ্গালিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৮০ শতাংশ, চুপাইর জামিউল উলুম মাদ্রাসায় ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, এম ইউ কামিল মাদ্রাসায় ৭৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ছাতিয়ানি আলিম মাদ্রাসায় ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং বাঘুন মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জামালপুর দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় পাসের হার মাত্র ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। চুপাইর জামিউল উলুম মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, “ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো করলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেগুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের
পড়াশোনার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেব।” শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফলের এই ব্যবধান প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।
পরীক্ষায় অংশ নিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেনি অর্ধেকের কাছাকাছি শিক্ষার্থী। কেউ আবার জিপিএ-৫ পেয়ে প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বাড়িয়েছে। এমন মিশ্র ফলাফলের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফল। দুই পরীক্ষায় ১ হাজার ১২৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬১৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৫০৪ জন। সম্মিলিত পাসের হার ৫৫ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার সাতটি কলেজ থেকে ১ হাজার ৪৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৬৫ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক ০১
শতাংশ। এ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। কলেজগুলোর ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে সেন্ট মেরিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০২ জন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে সাতজন। বিপরীতে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ঢালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র পাঁচজন। পাসের হার ২০ শতাংশ। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের ফলাফলও আলোচনায় এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৬৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৫২ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩১১ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি। এ ছাড়া আজমতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, কালীগঞ্জ সেন্ট্রাল কলেজে ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ, কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে ৪৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং জামালপুর কলেজে ২৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। কালীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে একজন এবং জামালপুর কলেজ থেকে দুজন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
অন্যদিকে, আলিম পরীক্ষায় সাতটি মাদ্রাসা থেকে ৭৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ২৩ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ১২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। আলিম পরীক্ষায় বড়গাঁও বাইতুল আলিম মাদ্রাসা শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছাড়া জাঙ্গালিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ৮০ শতাংশ, চুপাইর জামিউল উলুম মাদ্রাসায় ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, এম ইউ কামিল মাদ্রাসায় ৭৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ছাতিয়ানি আলিম মাদ্রাসায় ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং বাঘুন মদিনাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। জামালপুর দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় পাসের হার মাত্র ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। চুপাইর জামিউল উলুম মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান বলেন, “ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো করলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি, সেগুলোর পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের
পড়াশোনার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেব।” শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ফলাফলের এই ব্যবধান প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদানের মান নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। নিয়মিত পাঠদান, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।