রেজাল্ট পেয়ে আফিয়া বলল, ‘এ ফল দেখে তিনি খুব খুশি হতেন’

আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৭:৫০:০৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৭:৫০:০৮ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন বেনাপোলের আফিয়া মাসুমা। শোক সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এবার ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন তিনি। তার এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

 

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের পর আফিয়ার বাড়িতে এই দৃশ্য দেখা গেছে।

 

যশোরের শার্শা উপজেলা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। মাসুমা বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজগ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছোট মেয়ে। তার বাবা আব্দুস সামাদ (৬৫) বেনাপোলের মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তিনি একজন আমদানিকারকও ছিলেন।

 

পরিবার ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন আব্দুস সামাদ। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। রাতে মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। পরদিন সকালে স্বজনেরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে যান আফিয়া। বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন তিনি। পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে বাবার দাফনে অংশ নেন।

 

বাবার মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও স্বজনদের পরামর্শে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আফিয়া। তাকে শেষবারের মতো বাবাকে দেখার সুযোগ দিতে দাফনের সময়ও পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে তিনি স্বজনদের বলে যান, তাকে ছাড়াই যেন বাবার দাফন সম্পন্ন করা হয়। বাবাকে হারানোর শোক নিয়েই পরবর্তী পরীক্ষাগুলো শেষ করেন তিনি।

 

ফল প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় মাসুমা বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন আমার রেজাল্ট যেন ভালো হয়। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত। বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবেই নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম।

 

মাসুমা আরও বলেন, আমি আরও ভালো ফল করতে পারতাম। পরীক্ষার হলে লিখতে গিয়ে বারবার মৃত বাবার মুখ ভেসে উঠছিল। বাবা বেঁচে থাকলে এ ফল দেখে খুব খুশি হতেন। সবার কাছে বাবার জন্য দোয়া চাই।

 

শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ হাসান-উজ-জামান বলেন, আফিয়া শুরু থেকেই মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। সে ভালো ফল করবে বলে শিক্ষকদের প্রত্যাশা ছিল। পরীক্ষা চলাকালে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে কলেজের সম্মান বাড়িয়েছে।

 

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাবাকে হারানো যে কারও জন্যই কষ্টের। সেই শোক নিয়েও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাসুমার ভালো ফল করা আনন্দের সংবাদ। উপজেলা প্রশাসন এ মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে থাকবে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তার পরিবার সহযোগিতা চাইলে সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে।







 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]