ফুকেট থেকে ফি ফি আইল্যান্ড : নীল জলের পথে এক দ্বীপের গল্প

আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ১২:৫২:০৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ১২:৫৯:৫২ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফুকেট থেকে ফি ফি আইল্যান্ড : নীল জলের পথে এক দ্বীপের গল্প ফুকেটের ওল্ড টাউনের রঙিন ভবন আর পুরোনো স্থাপত্য দেখে দুপুরের পরেই রওনা হলাম ফেরিঘাটের উদ্দেশে। এবার গন্তব্য ফি ফি আইল্যান্ড। থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় এই দ্বীপের নাম বারবার সামনে এসেছিল। নীল সমুদ্র, পাহাড়ঘেরা উপসাগর আর সাদা বালুর সৈকতের ছবি দেখেছিলাম আগে। এবার সেসব নিজের চোখে দেখার পালা। ওল্ড টাউন থেকে ফেরিঘাটে যেতে বাসে উঠলাম। ভাড়া ছিল ১২০ টাকা। শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে বাস এগিয়ে চলল। এরপর ফেরিতে চড়ে শুরু হলো সমুদ্রযাত্রা। ফুকেটের সঙ্গে ফি ফির যোগাযোগের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম এই ফেরি। তবে সমুদ্রপথে কতক্ষণ লাগবে, তা ফেরির ধরন ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে। ফেরির জানালা দিয়ে সমুদ্র দেখা ফেরিতে ওঠার পর চারপাশের দৃশ্য ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকল।

শহরের ভবন আর সড়কের বদলে চোখের সামনে আন্দামানের বিস্তৃত নীল জলরাশি। দূরে কোথাও সবুজ পাহাড়, কোথাও সমুদ্রের বুক থেকে উঠে আসা পাথুরে দ্বীপ। যাত্রাপথে এসব দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে সময় কেটে গেল বুঝতেই পারিনি। বিজ্ঞাপন ফি ফি আইল্যান্ড শুধু একটি দ্বীপ নয়। এটি কয়েকটি দ্বীপের সমষ্টি। পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, খাবারের দোকান ও নানা সুবিধার জন্য ফি ফি ডন সবচেয়ে পরিচিত। অন্যদিকে ফি ফি লে তার পাহাড়ঘেরা উপসাগর ও স্বচ্ছ পানির জন্য জনপ্রিয়। এখানকার বিভিন্ন সৈকত ও দ্বীপ ঘুরে দেখার জন্য নৌভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। বিকেলের দিকে দ্বীপে পৌঁছালাম। সময় লেগেছিল দুই ঘণ্টা। নৌযাত্রার পর নতুন জায়গায় নেমে চারপাশটা দেখতে ইচ্ছা করছিল। এখানে এসে ফুকেটের শহুরে পরিবেশ থেকে একেবারেই আলাদা অনুভূতি হলো। দ্বীপের জীবন অনেকটাই সমুদ্রকেন্দ্রিক। কোথাও পর্যটকদের আনাগোনা, কোথাও নৌকা নিয়ে ব্যস্ত মানুষ। চারপাশে পাহাড় আর সমুদ্রের উপস্থিতি জায়গাটিকে আলাদা করে তুলেছে। নেই কোন যানবাহন। মায়া বে দ্বীপের উত্তর সৈকতে সন্ধ্যা বিজ্ঞাপন দ্বীপে পৌঁছে হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করে সন্ধ্যার দিকে উত্তর পাশের সৈকতে গেলাম। সমুদ্রের পাশে কিছুটা সময় কাটানো আর আশপাশ ঘুরে দেখাই ছিল পরিকল্পনা। দিনের আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের পরিবেশও বদলে যাচ্ছিল। সমুদ্রের বাতাস, ঢেউয়ের শব্দ আর চারপাশের মানুষের আনাগোনা মিলিয়ে সময়টা ভালোই কাটল। ফি ফি দ্বীপের একটি বিশেষ দিক হলো এখানে পুরো জায়গায় পায়ে হেঁটে ঘুরতে হয়। তবে কোথায় থাকছেন এবং কোন সৈকতে যেতে চান তার ওপর হাঁটার দূরত্ব নির্ভর করে। দ্বীপের ভেতরে চলাচলের ধরনও ফুকেটের মতো নয়। তাই পৌঁছানোর পর নিজের হোটেল, সৈকত ও নৌভ্রমণের ঘাটের

অবস্থান বুঝে নেওয়া সুবিধাজনক। সন্ধ্যায় দ্বীপের আশপাশ ঘুরে পরদিনের জন্য একটি নৌভ্রমণের প্যাকেজ নিলাম। পরদিন কয়েকটি দ্বীপ ও সৈকত ঘুরে দেখার পরিকল্পনা ছিল। ফি ফি ভ্রমণের বড় আকর্ষণগুলোর একটি হলো এই নৌভ্রমণ। একই যাত্রায় একাধিক জায়গা দেখার সুযোগ মেলে। তবে প্যাকেজ নেওয়ার আগে কোন কোন স্থানে নিয়ে যাবে, কতক্ষণ সময় দেবে এবং প্রবেশমূল্য অন্তর্ভুক্ত কি না, তা জেনে নেওয়া ভালো। পরদিনের অপেক্ষায় ফি ফি আইল্যান্ডে প্রথম দিনটি মূলত দ্বীপে পৌঁছানো, সৈকতে সময় কাটানো এবং পরদিনের পরিকল্পনা করার মধ্যেই কেটে গেল। জায়গাটি দেখার জন্য এক দিন যথেষ্ট কি না তা নির্ভর করে আপনার ভ্রমণের ধরন ও সময়ের ওপর। শুধু সৈকতে সময় কাটাতে চাইলে এক রকম, আর আশপাশের দ্বীপগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে আরেকটু সময় হাতে রাখা ভালো। আমাদের পরিকল্পনা ছিল পরদিন সকালে নৌকায় করে মায়া বে, বাম্বু দ্বীপ, মাঙ্কি বিচসহ আরও কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখা। সেসব জায়গার ছবি আগে দেখেছিলাম এবার সামনে থেকে দেখার সুযোগ আসছে। তাই সন্ধ্যার পর দ্বীপে সময় কাটিয়ে পরদিনের যাত্রার প্রস্তুতি নিলাম। ফুকেটের শহর, বিচ আর ওল্ড টাউন দেখার পর ফি ফি আইল্যান্ডে এসে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যেন নতুন দিকে মোড় নিল। এবার আর শহরের রাস্তা নয়। সামনে সমুদ্র, নৌকা আর একের পর এক দ্বীপ। পরের পর্বে থাকবে সেই নৌভ্রমণের গল্প- মায়া বে, বাম্বু বিচ ও মাঙ্কি বিচের পথে এক দিন। ফি ফি আইল্যান্ড ভ্রমণে খরচ কেমন? ফি ফি আইল্যান্ডে দুই রাত থাকার জন্য হোটেল ভাড়া পড়েছে ৫ হাজার ৫৬৩ টাকা। ফুকেট থেকে দ্বীপে যাওয়ার ফেরির টিকিটে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ টাকা। ফেরিঘাটে যাওয়ার জন্য ওল্ড টাউন থেকে বাসে ভাড়া দিয়েছিলাম ১২০ টাকা জনপ্রতি। দ্বীপে পৌঁছানোর পর হোটেল ও আশপাশের জায়গাগুলোতে হেঁটেই চলাচল করেছি। ফলে স্থানীয় যাতায়াতে বাড়তি খরচ হয়নি। খাবারের জন্য প্রতিদিন জনপ্রতি প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দুই দিন থাকায় খাবারের পেছনে মোট খরচ হয়েছে আনুমানিক ৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া মায়া বে, বাম্বু আইল্যান্ড, মাঙ্কি বিচসহ আশপাশের দ্বীপ ঘুরে দেখার

নৌভ্রমণ প্যাকেজে জনপ্রতি খরচ হয়েছে ৫ হাজার ৩৮৬ টাকা। ভ্রমণের আগে প্যাকেজে কোন কোন জায়গা অন্তর্ভুক্ত, খাবার বা জাতীয় উদ্যানের প্রবেশমূল্য আলাদা দিতে হবে কি না তা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]