সংবাদ প্রকাশের পর বাকেরগঞ্জে ধ'র্ষ'ণে'র অ'ভি'যো'গে মা'ম'লা, ওসির ভূমিকা নিয়ে ওঠা অ'ভি'যো'গে'র নিরপেক্ষ ত'দ'ন্তে'র দা'বি

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৮:০৪:১৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৮:০৫:৫৪ অপরাহ্ন
বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিনিধি-

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং বিচার চাইতে থানায় গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নতুন অগ্রগতি হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশের পর সন্ধ্যায় ওসি আদিল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ভুক্তভোগীকে বাড়ী থেকে থানায় নিয়ে যান এবং তাঁর অভিযোগে মামলা গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তাঁকে শুক্রবার বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, বিয়ের মাত্র ১৬–১৭ দিনের মাথায় গণধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে বিচার চাইতে গিয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা না নেওয়া এবং উল্টো সাত বছরের কারাদণ্ডের ভয় দেখানোর অভিযোগ করেন ওই নববধূ। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশি পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকার তার সৎ ভাসুর ইমরান প্যাদা গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে তাঁকে বাজারে নিয়ে যান। রাতে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদা (৩৮) ও প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। পরে সেখানকার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে করে মামলা করতে বাকেরগঞ্জ থানায় যান।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় ওসি আদিল হোসেনের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁকে বলা হয়, ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই এবং গোসল করার কারণে আলামত নষ্ট হয়ে গেছে। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকেই সাত বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়। এছাড়াও ওসি তাকে "শালির অর্ধেক ভাগ পায়" বলেও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি আদিল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী তাঁর স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাঁদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তাঁরা পরে জানাবেন বলে চলে যান। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। একই সঙ্গে থানায় গণধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণ না করা এবং ভুক্তভোগীকে ভয় দেখানোর অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অপরদিকে গণধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের পরে ওসি নিজের গদি রক্ষায় তার কয়েকজন অনুগত সাংবাদিকদের দিয়ে পক্ষে রিপোর্ট করানোর জন্য দেনদরবার করছেন। বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা না নেওয়ার সুযোগ নেই। ওসি অভিযোগ গ্রহণ না করে ভুক্তভোগীকে

ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকলে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীর মামলার তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে এগোয় এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা পান কি না, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]