ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বি'রু'দ্ধে যুবকের কোমরে দড়ি বেধে পায়ের তলায় পে'টা'নো'র অ'ভি'যো'গ

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৬:৩৩:৩৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৬:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন
রাহাদ সুমন,বরিশাল ব্যুরো:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক যুবককে কোমরে দড়ি বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য সরদার এনামুল হক ওরফে এলিন সরদারের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নির্যাতনের শিকার মো. কামাল মাঝির স্ত্রী সোনিয়া আক্তার জেলা প্রশাসকের কাছে এলিন সরদারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি পুলিশ সুপার ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত

অন্যরা হলেন মাহফুজ সরদার, হারুন সরদার, ফরিদ রাঢ়ী, নয়ন হাওলাদার, রফেল শরীফ ও মো. রাজা। অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এক অভিযুক্ত মুঠোফোনে কামালকে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মুড়াসাতা এলাকায় ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে পায়ের তলায় পেটানো হয়। পরে জিআই পাইপ ও লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী পাঁচ বছর আগে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এখন আর সেই ব্যবসা করেন না। তিনি অপরাধী হলে আইন তাঁর বিচার করবে। তাঁকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’ অভিযোগের বিষয়ে এলিন সরদার বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়েছিলাম। এ সময় ধানখেতের ভেতরে কয়েকজন মাদক সেবন ও বিক্রি করছেন—এমন খবর পেয়ে সেখানে গেলে কয়েকজন পালিয়ে যান। পরে কামালসহ

দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।’ এলিনের দাবি, কামাল পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী এবং এর আগেও একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে আটকের সময় কামালের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য বা মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গিয়েছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, সেখান থেকে কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে যারা দৌড়ে পালিয়ে গিয়েছে, তাদের কাছে হয়তো ছিল।’ কামালকে মারধরের বিষয়ে এলিন বলেন, ‘হ্যাঁ, তাকে হালকা-পাতলা মারধর করা হয়েছে। এটা মিথ্যা নয়।’ তাঁর দাবি, ভালো কাজ করতে গেলে কিছু কুচক্রী মহল তা ভিন্নভাবে নেওয়ার চেষ্টা করে। মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কামাল ও অপর এক ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের প্রত্যেককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘অসংলগ্ন আচরণের কারণে তাঁদের সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের গণবিচার সমর্থন করে না। দলের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটালে তার দায় দল নেবে না; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই দায় নিতে হবে।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), টিআইবি ঝালকাঠির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্যবান সেনগুপ্ত বলেন, কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার নেই। কেউ অপরাধ করলে তাঁকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। কোমরে দড়ি বেঁধে পেটানোসহ এ ধরনের নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]