ব্রাহ্মণপাড়ায় সাপের আ'ত'ঙ্কে ধান্যদৌল গ্রামের মানুষ এক বাড়ি থেকে উদ্ধার ৫২টি বিষধর সাপ, আ'ত'ঙ্কে নারী-শিশুসহ বাসিন্দারা

আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৯:০১:১২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০৯:০২:৪২ অপরাহ্ন
মোঃ অপু খান চৌধুরী।।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামে সাপের আতঙ্ক ক্রমেই বাড়ছে। একের পর এক বসতঘর থেকে সাপের বাচ্চা ও বড় সাপ বের হওয়ায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে ধান্যদৌল এলাকার গুচ্ছগ্রামের একটি বাড়ির বিভিন্ন ঘর থেকে ৫০টি সাপের বাচ্চা ও ২টি বড় সাপ ধরেছেন এক সাপুড়ে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর ধান্যদৌল গ্রামে সাপের কামড়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যুর পর থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে সাপ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর পর গত ২২ অক্টোবর সামসু মাস্টারের বাড়ি থেকে ২২টি বিষধর সাপ মেরে ফেলা হয় । এরপর বিভিন্ন বাড়িতে সাপের বাচ্চা ও বড় সাপের দেখা মেলায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে ধান্যদৌল গুচ্ছগ্রামের আজিজ মিয়ার বাড়ির জালালের ঘরে একটি সাপের বাচ্চা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে সেটি পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। এর কিছুদিন পর একই বাড়িতে আরও একটি সাপের বাচ্চা দেখা গেলে সেটিও মেরে ফেলা হয়। গত ২৮ অক্টোবর একই বাড়ির মানিকের ঘরের সামনে আরও একটি সাপ মারা হয়। একই দিন আজিজ মিয়ার ঘরে সামনেও একটি সাপের বাচ্চা দেখতে পেয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেন স্থানীয়রা। এভাবে একের পর এক সাপের উপস্থিতি দেখা দেওয়ায় বাড়ির লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে রাজু কবিরাজ নামে এক সাপুড়েকে খবর দেওয়া হয়। গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে রাজু কবিরাজ আজিজ মিয়ার বাড়িতে গিয়ে সাপ ধরার কাজ শুরু করেন। এ সময় বাড়ির একাধিক ঘর থেকে একের পর এক সাপের বাচ্চা ও বড় সাপ বেরিয়ে আসে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,

শাহজাহানের ঘরের একটি ছোট ব্যাগের ভেতর থেকে ১০টি সাপের বাচ্চা বের করা হয়। একই ঘরের বইয়ের ভেতর থেকেও একটি সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। আলমের ঘর থেকে চার-পাঁচটি সাপের বাচ্চা বের হয়। বাদশা মিয়ার ঘরে বস্তার নিচ থেকে আট থেকে ১০টি সাপের বাচ্চা পাওয়া যায়। এ ছাড়া আলমের ঘরের মুরগির খোঁয়াড়ের নিচ থেকে একটি বড় সাপ এবং কাউসারের ঘর থেকে আরেকটি বড় সাপ ও ছয়-সাতটি সাপের বাচ্চা ধরা হয়। আলামিনের ঘর থেকেও ছয়-সাতটি সাপের বাচ্চা বের করা হয়। বাড়ির অন্যান্য ঘর থেকেও সাপ পাওয়া যায়।সব মিলিয়ে সাপুড়ে রাজু কবিরাজের দাবি, ওই বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৫০টি সাপের বাচ্চা ও দুটি বড় সাপ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সাপের বাচ্চা মারা যায়। বাকি সাপগুলো তিনি নিয়ে যান। সাপ ধরার বিষয়ে রাজু কবিরাজ বলেন, ওই বাড়ি থেকে মোট ৫০টি সাপের বাচ্চা ও দুটি বড় সাপ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সাপের বাচ্চা মারা গেছে। বাকি সাপগুলো তিনি নিয়ে গেছেন একই বাড়ির একাধিক ঘর থেকে সাপ বের হওয়ায় গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় আরও বেড়েছে। ঘরের ব্যাগ, বই, বস্তা কিংবা মুরগির খোঁয়াড়ের নিচে সাপ পাওয়ার ঘটনায় নিজেদের বসতঘরেও নিরাপদ বোধ করছেন না অনেকে। কখন কোন

ঘর থেকে সাপ বেরিয়ে আসে, সেই আশঙ্কায় শিশুদের একা ছেড়ে দিতেও ভয় পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আশপাশের বাড়ি কিংবা বসতঘরের অন্য কোনো স্থানে আরও সাপ থাকতে পারে। এ কারণে পুরো গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকেরা।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]