নিজস্ব প্রতিবেদক
বিআরটিএর উচ্চমান সহকারী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ঘুষ দুর্নীতি দালাল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে সেবার নামে হয়রানি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অজস্র টাকা অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী অবৈধ অর্থ ও বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য করে শাস্তির বদলে থেকে যাচ্ছেন বহাল তবিয়তে! সম্প্রত অভিযোগ এসেছে বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল ৪ এর উচ্চমান সহকারী হারুনুর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতি ঘুষ নানা অভিযোগ।
হারুন অর রশিদ কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়াচর উপজেলার উজান আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের গোবারিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক মোঃ বজলুর রহমান ও মোসাম্মৎ আনোয়ারা বেগমের ছেলে। ২০১০ সালে বিরত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রির সুপারিশে বিআরটিএতে চাকরিতে যোগদান করেন।
বর্তমানে তিনি বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল ৪ এর উচ্চমান সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন এবং এখানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থের দিয়ে ম্যানেজ করে আছেন বহাল তবিয়তে কোন অভিযোগ বা কোন অনিয়মের দায়ে কোন শাস্তিটাকে স্পর্শ করতে পারে না।
হারুন অর রশিদকে বলা হয় বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল ৪ এর অঘোষিত সম্রাট।
অভিযোগ রয়েছে, কর্মজীবনের শুরুতেই অর্থের লোভে শুরু করেন অনিয়ম দুর্নীতি ঘুষ সহ নানা অপকর্ম যা এখনো চলমান রয়েছে যখন যে কর্মস্থলে যেখানেই কর্মরত ছিলেন আছেন প্রত্যেক জায়গায়ই তিনি বানিয়েছেন অনিয়মের রাজ্য।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ অর্থে নিজ গ্রামে ভাঙা টিনের ঘর ভেঙে তৈরি করেছেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, যে পরিবার এক সময় তিন বেলা ঠিকমতো খেতে পারত না তারা আজ বিলাসী জীবনযাপন করছে নিজ গ্রামে ক্রয় করেছেন পরিবারের সদস্যদের নামে বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি জমা সম্পদের তালিকায় এখানেই শেষ নয়।
রাজধানী ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর সেনপাড়ায় ৪২৯/এ, এই ভবনে আনুমানিক দেড় কোটি টাকা দিয়ে দুইটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন অবাক করা বিষয় হচ্ছে তার ফ্ল্যাটের দরজাটি ক্রয় করা হয়েছে অনেক দামি যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। আমাদের অনুসন্ধানে তার ফ্ল্যাটের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় এবং তিনি নিজেও সেটা স্বীকার করেছেন।
উত্তরায় রয়েছে, তার একটি বিলাসবহুল ফ্লাট। রাজধানীর পূর্বাচলে রয়েছে পাঁচ কাটার একটি প্লট। ব্যক্তিগত চলাচলের জন্য রয়েছে অর্ধ কোটি টাকা মূল্যের একটি গাড়ি যাহার নাম্বার ঢাকা মেট্রো ঘ ১৯-৩৫৭৩। পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে বিপুল পরিমাণ নবদ অর্থ।
অবৈধ অর্থ তৈরি করেছেন একটি গাড়ির ব্যবসা আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ টি গাড়ি রয়েছে তার যেগুলো ক্রয় বিক্রয় করেন তবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসাটি তিন জন মিলে পরিচালনা করছেন সঙ্গে তার দুই বন্ধু আছে।
হারুন অর রশিদ বিআরটিএর একজন উচ্চমান সহকারী ১৪ তম গ্রেডের যার সর্বসাকুল্যে বেতন সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা! তাহলে এত কোটি কোটি টাকার সম্পদ কি তার বৈধ আই দিয়ে হয়েছে ?মাত্র ১৬ বছরের চাকরি জীবনে ঘুষ দুর্নীতির টাকায় তিনি হয়ে গেছেন শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক।
এবারে আসুন তার কর্মজীবনের উল্লেখিত অনিয়মের কিছু বিষয়ঃ
বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যে জানা যায়, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডিবি হারুনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ছিলেন। সেই প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ বদলি বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে হয়ে যান বিএনপি পন্থী।
পূর্বাঞ্চল মেট্রো -৪ বিআরটিএতে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে বিভিন্ন অপকর্মের মাধ্যমেই অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন গ্রাহকদের কাছ থেকে।
অভিযোগ রয়েছে, এখানে তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করেন সমস্ত ঘুষের টাকা তার কাছেই আসে এবং তিনি উপর মহলে পৌঁছে দেন। রয়েছে তার একটি নির্দিষ্ট দালাল সিন্ডিকেট যাদের মাধ্যমে যানবাহনের সকল কাজ করে দেন অর্থের বিনিময়।
মিরপুর ১৩ নাম্বার বিআরটিএ’র ১১৬ নাম্বার কক্ষে দায়িত্ব থাকাকালীন সময়ে, গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় ফাইল সম্পন্ন করে দিতেন। সেই সময়ে তিনি দালাল নিয়ন্ত্রণ করে অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। রয়েছে তার নিজস্ব তৈরি করা একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট যাদেরকে দিয়ে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তি ও সেবা গ্রহীতা অনেক মানুষকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মিরপুর ১৩ নম্বর বিআরটিএতে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনিয়মের একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরে তাকে সিলেট মেট্রো সার্কেলে বদলি করা হয়েছিল।
কিছুদিন সিলেট মেট্রোতে থাকা অবস্থায় মোটা অংকের টাকার বিনিময় পুনরায় ঢাকা মেট্রো -৪ সার্কেলে বদলি হয়ে আসেন এবং পুনরায় বানিয়ে নিয়েছেন ঘুষ আর অনিয়মের রাজ্য।
বিআরটিএর একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বেশ কাছে একজন উচ্চমান সহকারীর সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বৈধ আয় দিয়ে কোনোভাবেই এটা সম্ভব না তবে তিনি খুব চালাক তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ থাকুক না কেন অবৈধ অর্থ দিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে দিতে পারেন অতি দ্রুত এই ধরনের দুর্নীতিবাজ কর্মচারীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে না হলে সাধারণ মানুষ সেবার নামে আরও হয়রানীর মুখে পড়বে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে এই সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ করে না গণমাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতির প্রকাশিত সংবাদ গুলো খুব গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে দেখে।
এই বিষয়ে জানতে উচ্চমান সহকারী হারুন অর রশিদের কাছে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ফোনে কোন কথা বলি না আপনি সরাসরি অফিসে আসেন।