শিক্ষার্থীদের সমর্থনে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন ‘হ্যাঁ, আমি দিমাগি নকশাল’

আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১২:১৩:৩৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১২:১৩:৩৫ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচকদের দেশবিরোধী আখ্যা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে সরব হয়েছেন বিশিষ্ট অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা এবং গণতন্ত্রকে বিপন্ন করার চেষ্টা বন্ধ হওয়া উচিত।

 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেসবুকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে নাসিরুদ্দিন শাহ ছাত্র বিক্ষোভ মোকাবেলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং দেশের শিক্ষা ও গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

 

এক ভিডিও বার্তায় ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে নিজেকে ‘দিমাগি নকশাল’ বলে উল্লেখ করেন অভিনেতা। 

 

তার অভিযোগ, কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধীদের কখনো দেশবিরোধী, কখনো ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই প্রবণতার সমালোচনা করেই তিনি বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে বলছি, আমি একজন দিমাগি নকশাল।’

 

নাসিরুদ্দিনের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা এবং সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

 

ভিডিও বার্তায় নাসিরুদ্দিন শাহ তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, এরপর সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট এবং এখন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা চাপ ও অত্যাচারের মুখে পড়ছেন। এসব ঘটনা ভবিষ্যতেও মনে রাখা হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

সম্প্রতি কলকাতার সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ক্যাম্পাসে সহিংসতার অভিযোগের পর শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। গত সপ্তাহেও তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ। এবার জামিয়ার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। 

 

২০০৬ সালের পর থেকে নির্বাচন না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছাত্র সংসদের সংবিধান অনুমোদনের সময়সীমা স্পষ্ট করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

 

শিক্ষার্থীদের এই দাবির প্রসঙ্গ টেনে নাসিরুদ্দিন শাহ বৃহত্তরভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিবাদের পরিবেশ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এদিকে নিজের বক্তব্যে সংবাদমাধ্যমের একাংশ এবং বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার বিরুদ্ধেও সরব হন অভিনেতা। তার অভিযোগ, সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে সংবাদমাধ্যমের কিছু অংশ এবং স্যোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় রাজনৈতিক প্রচারযন্ত্র ভূমিকা রাখছে।

 

সংবাদমাধ্যমের ওই অংশকে ‘গোদি মিডিয়া’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি শাখার কর্মীদেরও সমালোচনা করেন নাসিরুদ্দিন। তবে তার বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পক্ষে আলাদা কোনো তথ্যপ্রমাণ দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

 

ভিডিও বার্তার শেষ দিকে প্রতিবাদী কবিতার আশ্রয় নেন নাসিরুদ্দিন শাহ। বিসমিল আজিমাবাদির বিখ্যাত ‘সরফরোশি কি তমন্না’ কবিতার একটি পঙ্ক্তি আবৃত্তি করেন তিনি। 

 

এরপর প্রতিবাদীদের উদ্দেশে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে যা কিছু প্রয়োগ করার আছে, সবই প্রয়োগ করা হোক। কিন্তু তাতে দেশের যুবসমাজের মনোবল ভাঙা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা কিংবা গণতন্ত্রকে বিপন্ন করা সম্ভব হবে না।






 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]