নিজস্ব প্রতিবেদক
আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পালপুর গ্রামের ফখরুজ্জামান ও শফিউল আলম জগলুসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবারের ঘটনাটি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নয়; বরং মাছুয়াখালী জলমহালের দখল ও মাছ আহরণকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ফখরুজ্জামান।
অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, ঘটনার সময়কার একাধিক ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে। এসব ফুটেজে তোফায়েল আহমদকে জলমহাল এলাকা থেকে ধরে নিয়ে আসা এবং পরে পুলিশের একটি দল তাঁকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ তোফায়েলকে নিয়ে যাওয়ার সময়কার ভিডিওতে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে ভিডিওর পূর্ণাঙ্গতা, ঘটনার সময়ক্রম এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, তোফায়েল আহমদের চাচা মিজান আহমদ অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাঁর ভাতিজাকে নিয়ে যাওয়ার পর রাস্তা থেকে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ তাঁকে নিয়ে যান। পরে
তোফায়েলের মাথায় কাটা-ছেঁড়ার দাগ ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মাছুয়াখালী জলমহালের ইজারা নিয়ে বিরোধ অভিযুক্ত পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার টপকা, চাতল, চমক ডিগা ও পূর্ব শেওয়াইজুরী এলাকায় অবস্থিত মাছুয়াখালী জলমহালটি শেওয়াইজুরী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রসময় সরকার ছয় বছরের জন্য ইজারা পান। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, নানকার, সদর, মৌলভীবাজারের স্বাক্ষরিত স্মারক নম্বর ১৮৮-এর মাধ্যমে জলমহালটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ইজারা বাতিলের কথা বলে ওই জলমহাল থেকে মাছ আহরণ করেন। এ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য সদর উপজেলা ও জেলা বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে দশজন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত ছিলেন বলে তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে শামীম আহমদ জলমহালের অর্ধেক মাছ আহরণের কথা স্বীকার করেন। পরে অবশিষ্ট মাছ আহরণ এবং সরকারি ইজারার ২০ লাখ টাকা রসময় সরকারকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে তাঁদের দাবি। তবে মাছ আহরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জলমহালে গিয়ে তোফায়েল আটক—অভিযুক্ত পক্ষের দাবি অভিযুক্ত পক্ষ ও তাঁদের সমর্থক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ঘটনার দিন তোফায়েল আহমদসহ ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি মাছুয়াখালী জলমহালে গিয়ে দখল ও মাছ আহরণের চেষ্টা করেন। এ সময় ইজারাদারের লোকজন বাধা দিলে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তোফায়েল আহমদ সেখানে আটক হন বলে তাঁদের দাবি। পরে তাঁকে এলাকার মুরুব্বি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফখরুজ্জামান তখন জুমার নামাজে যাওয়ার পথে বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁদের দাবি, ফখরুজ্জামান তোফায়েলকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন এবং কেউ যেন তাঁর গায়ে হাত না দেন, সে বিষয়ে নির্দেশ দেন। নামাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তাঁরা। বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভিডিও
ফুটেজের দাবি অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নামাজ শেষে ফখরুজ্জামান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বাড়িতে ডেকে তোফায়েল আহমদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তোফায়েল সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা এবং আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, শামীম আহমদের কথায় জলমহালে মাছ আহরণ ও দখল নিতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন বলে তোফায়েল উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে জানান। এ বক্তব্যের সমর্থনে একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। তবে তোফায়েল আহমদের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এবং ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু পর্যালোচনা ছাড়া এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অভিযুক্ত পক্ষের ভাষ্য, তোফায়েল আহমদের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশের অপেক্ষায় থাকার কথা জানান। পরে ইউসুফ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। পুলিশ তোফায়েলের বক্তব্য শোনার পর তাঁকে নিয়ে যায় বলে তাঁদের দাবি। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, পুলিশ তোফায়েলকে নিয়ে যাওয়ার সময় ধারণ করা ভিডিওতে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তাঁদের মতে, ঘটনার আগে ও পরের ভিডিও ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তবে ভিডিওতে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকা মানেই কোনো আঘাত ঘটেনি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
একইভাবে, পরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাওয়ার দাবি থেকেও তা কখন, কোথায় বা কার দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই জরুরি। তোফায়েলের চাচার অভিযোগ, তদন্তের দাবি তোফায়েল আহমদের চাচা মিজান আহমদ অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর ভাতিজাকে নিয়ে যাওয়ার পর রাস্তা থেকে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ তাঁকে নিয়ে যান। পরে তোফায়েলের মাথায় কাটা-ছেঁড়ার দাগ ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান মিজান আহমদ। মিজান আহমদের দাবি, তোফায়েলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন কখন, কোথায় ও কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে শামীম আহমদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই হয়নি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা দাবি, ফখরুজ্জামানের প্রতিবাদ শেখ ফেরদৌস আহমদ, বাবর জাগিরদার, কাদির মিয়া, আব্দুল জলিল, মিজান মিয়া ও রাসেল তরফদারসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, ঘটনাটির সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সম্পর্ক নেই; মাছুয়াখালী জলমহাল নিয়ে বিরোধই এর মূল কারণ। ফখরুজ্জামান বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হলে নিরপরাধ মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাঁর অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা দাবি করে ফখরুজ্জামান এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সব
পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পালপুর গ্রামের ফখরুজ্জামান ও শফিউল আলম জগলুসহ তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবারের ঘটনাটি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নয়; বরং মাছুয়াখালী জলমহালের দখল ও মাছ আহরণকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ফখরুজ্জামান।
অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, ঘটনার সময়কার একাধিক ভিডিও ফুটেজ তাঁদের কাছে রয়েছে। এসব ফুটেজে তোফায়েল আহমদকে জলমহাল এলাকা থেকে ধরে নিয়ে আসা এবং পরে পুলিশের একটি দল তাঁকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ তোফায়েলকে নিয়ে যাওয়ার সময়কার ভিডিওতে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে ভিডিওর পূর্ণাঙ্গতা, ঘটনার সময়ক্রম এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি যাচাই ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, তোফায়েল আহমদের চাচা মিজান আহমদ অভিযোগ করেছেন, পুলিশ তাঁর ভাতিজাকে নিয়ে যাওয়ার পর রাস্তা থেকে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ তাঁকে নিয়ে যান। পরে
তোফায়েলের মাথায় কাটা-ছেঁড়ার দাগ ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মাছুয়াখালী জলমহালের ইজারা নিয়ে বিরোধ অভিযুক্ত পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার টপকা, চাতল, চমক ডিগা ও পূর্ব শেওয়াইজুরী এলাকায় অবস্থিত মাছুয়াখালী জলমহালটি শেওয়াইজুরী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি রসময় সরকার ছয় বছরের জন্য ইজারা পান। তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, নানকার, সদর, মৌলভীবাজারের স্বাক্ষরিত স্মারক নম্বর ১৮৮-এর মাধ্যমে জলমহালটির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ইজারা বাতিলের কথা বলে ওই জলমহাল থেকে মাছ আহরণ করেন। এ নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য সদর উপজেলা ও জেলা বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে দশজন চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপস্থিত ছিলেন বলে তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে শামীম আহমদ জলমহালের অর্ধেক মাছ আহরণের কথা স্বীকার করেন। পরে অবশিষ্ট মাছ আহরণ এবং সরকারি ইজারার ২০ লাখ টাকা রসময় সরকারকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে তাঁদের দাবি। তবে মাছ আহরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ওই টাকা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এসব অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জলমহালে গিয়ে তোফায়েল আটক—অভিযুক্ত পক্ষের দাবি অভিযুক্ত পক্ষ ও তাঁদের সমর্থক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, ঘটনার দিন তোফায়েল আহমদসহ ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি মাছুয়াখালী জলমহালে গিয়ে দখল ও মাছ আহরণের চেষ্টা করেন। এ সময় ইজারাদারের লোকজন বাধা দিলে অন্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তোফায়েল আহমদ সেখানে আটক হন বলে তাঁদের দাবি। পরে তাঁকে এলাকার মুরুব্বি ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফখরুজ্জামানের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফখরুজ্জামান তখন জুমার নামাজে যাওয়ার পথে বিষয়টি জানতে পারেন। তাঁদের দাবি, ফখরুজ্জামান তোফায়েলকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন এবং কেউ যেন তাঁর গায়ে হাত না দেন, সে বিষয়ে নির্দেশ দেন। নামাজ শেষে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তাঁরা। বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভিডিও
ফুটেজের দাবি অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, নামাজ শেষে ফখরুজ্জামান স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বাড়িতে ডেকে তোফায়েল আহমদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তোফায়েল সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার কথা এবং আরও কয়েকজনের কাছ থেকেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন বলে তাঁদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, শামীম আহমদের কথায় জলমহালে মাছ আহরণ ও দখল নিতে তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন বলে তোফায়েল উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে জানান। এ বক্তব্যের সমর্থনে একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। তবে তোফায়েল আহমদের বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই এবং ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু পর্যালোচনা ছাড়া এসব দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অভিযুক্ত পক্ষের ভাষ্য, তোফায়েল আহমদের পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পুলিশের অপেক্ষায় থাকার কথা জানান। পরে ইউসুফ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত হয়। পুলিশ তোফায়েলের বক্তব্য শোনার পর তাঁকে নিয়ে যায় বলে তাঁদের দাবি। অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, পুলিশ তোফায়েলকে নিয়ে যাওয়ার সময় ধারণ করা ভিডিওতে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তাঁদের মতে, ঘটনার আগে ও পরের ভিডিও ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তবে ভিডিওতে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকা মানেই কোনো আঘাত ঘটেনি—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
একইভাবে, পরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাওয়ার দাবি থেকেও তা কখন, কোথায় বা কার দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য পূর্ণাঙ্গ ভিডিও, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই জরুরি। তোফায়েলের চাচার অভিযোগ, তদন্তের দাবি তোফায়েল আহমদের চাচা মিজান আহমদ অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁর ভাতিজাকে নিয়ে যাওয়ার পর রাস্তা থেকে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ তাঁকে নিয়ে যান। পরে তোফায়েলের মাথায় কাটা-ছেঁড়ার দাগ ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান মিজান আহমদ। মিজান আহমদের দাবি, তোফায়েলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন কখন, কোথায় ও কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করলে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। তিনি এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে শামীম আহমদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই হয়নি। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা দাবি, ফখরুজ্জামানের প্রতিবাদ শেখ ফেরদৌস আহমদ, বাবর জাগিরদার, কাদির মিয়া, আব্দুল জলিল, মিজান মিয়া ও রাসেল তরফদারসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে অভিযুক্ত পক্ষ দাবি করেছে, ঘটনাটির সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সম্পর্ক নেই; মাছুয়াখালী জলমহাল নিয়ে বিরোধই এর মূল কারণ। ফখরুজ্জামান বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে একপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হলে নিরপরাধ মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাঁর অভিযোগ, সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদ পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা দাবি করে ফখরুজ্জামান এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সংবাদকর্মীদের প্রতি প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ, ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সব
পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।