নিজস্ব প্রতিবেদক
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সময় অসতর্কতার কারণে অনেকেই ভুল নম্বরে টাকা পাঠিয়ে ফেলেন। বিকাশে এমন ঘটনা ঘটলে কীভাবে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে প্রাপকের নম্বরটি বিকাশে নিবন্ধিত কি না এবং লেনদেনের অবস্থার ওপর। এ ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিকাশের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
প্রাপকের নম্বর বিকাশে নিবন্ধিত না হলে
যে নম্বরে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেটি বিকাশে নিবন্ধিত না থাকলে অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন বাতিল করার সুযোগ থাকতে পারে। এ জন্য প্রথমে বিকাশ অ্যাপে গিয়ে ‘সেন্ড মানি’ অপশনে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট লেনদেনের পাশে ‘নন-বিকাশ’ লেখা থাকলে সেখানে ট্যাপ করে ‘ক্যানসেল’ বা বাতিল করার অপশন নির্বাচন করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করলে টাকা ফেরত আসতে পারে।
তবে এই সুবিধা কেবল নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে প্রযোজ্য। তাই লেনদেন বাতিলের অপশন না থাকলে বিকাশের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত।
প্রাপক সক্রিয় বিকাশ ব্যবহারকারী হলে
ভুল করে টাকা এমন কোনো নম্বরে পাঠানো হলে, যেটি সক্রিয় বিকাশ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত, সে ক্ষেত্রে অ্যাপ থেকে সরাসরি লেনদেন বাতিল করা সাধারণত সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় দ্রুত বিকাশের হেল্পলাইন ১৬২৪৭-এ যোগাযোগ করতে হবে অথবা নিকটস্থ গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যেতে হবে।
অভিযোগ জানানোর সময় লেনদেনের তারিখ ও সময়, প্রেরক ও প্রাপকের নম্বর, পাঠানো টাকার পরিমাণ এবং লেনদেনের আইডি বা প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিকাশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা দিতে পারে।
প্রাপক টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনগত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে টাকা ফেরত পাওয়া নিশ্চিত নয়; বিষয়টি লেনদেনের তথ্য, প্রাপকের সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
ভুল লেনদেন এড়াতে যা করবেন
বিকাশে টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নম্বর ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। নম্বর দেওয়ার পর স্ক্রিনে প্রদর্শিত প্রাপকের নাম মিলিয়ে নিয়ে তারপর লেনদেন নিশ্চিত করা উচিত। লেনদেনের রসিদ বা এসএমএসও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
ভুল নম্বরে টাকা চলে গেলে দেরি না করে বিকাশের আনুষ্ঠানিক গ্রাহকসেবা চ্যানেলে যোগাযোগ করুন। পাশাপাশি পিন বা ওটিপির মতো গোপন তথ্য কাউকে দেবেন না এবং টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে কেউ অতিরিক্ত অর্থ চাইলে সতর্ক থাকুন।