নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, শুধু ডায়ালিসিস মেশিন সরবরাহ কিংবা হাসপাতালের সংখ্যা বাড়িয়ে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মানুষের জন্য ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না গেলে কিডনি রোগীদের ডায়ালিসিসের দীর্ঘ মিছিল কখনোই থামবে না।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বিসিক ভবনে বিশ্ব আয়োডিন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১০ থেকে ২০ বছর আগেও মানুষের মধ্যে কিডনি রোগ কিংবা নিয়মিত ডায়ালিসিসের প্রয়োজনীয়তা এত ব্যাপকভাবে দেখা যেত না। অথচ এখন প্রায় প্রতিটি পরিবার কিংবা আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কিডনি রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।
কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক ডায়ালিসিস মেশিন কিনছি এবং কিনব, জেলায় জেলায় এগুলো পৌঁছে দেব। কিন্তু এই কাজটি কখনোই শেষ হবে না, এই মিছিল কখনোই থামবে না, যদি আমরা মানুষের জন্য ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারি।’
তিনি আরও বলেন, রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শুধু চিকিৎসার যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে খাদ্যে ভেজাল বন্ধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।
অনুষ্ঠানে আয়োডিনের ঘাটতি ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের এখনো প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে ভুগছে। এর ফলে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বামনত্ব, গলগণ্ডসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রার পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এসব শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।