নিজস্ব প্রতিবেদক
শীতের মৌসুম সামনে রেখে দেশের বাজারে নিভিয়া, ভ্যাসলিন, পন্ডস ও ডোভসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল ক্রিম ও লোশন ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব পণ্য আসল ব্র্যান্ডের মোড়ক, স্টিকার ও বারকোড ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। ফলে সাধারণ ক্রেতারা অনেক সময় আসল-নকলের পার্থক্য বুঝতে পারছেন না।
অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টরা জানান, পুরান ঢাকার চকবাজার, সোয়ারীঘাট, কেরানীগঞ্জের জিনজিরা-মুসলিমাবাদ, কামরাঙ্গীরচর ও সাভারের বিভিন্ন এলাকায় নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব স্থানে নিম্নমানের বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে ক্রিম, বডি লোশন ও পেট্রোলিয়াম জেলি তৈরি করে পরিচিত ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিম্নমানের বা অননুমোদিত প্রসাধনীতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকলে ত্বকে অ্যালার্জি, জ্বালাপোড়া, র্যাশ ও দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ত্বকে ব্যবহারের আগে পণ্যের উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, মেয়াদ ও অনুমোদনের তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নকল পণ্যের ব্যবসায় বড় ধরনের মুনাফার সুযোগ থাকায় শীত মৌসুমকে সামনে রেখে এর উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো হয়। পাইকারি বাজারের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পেজেও বিদেশ থেকে আমদানির কথা বলে এসব পণ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
প্রতি বছর শীত মৌসুমে নকল প্রসাধনীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও বাজারজুড়ে এর বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।