নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে কর্মক্ষেত্রজনিত মানসিক চাপ, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি হার গ্রিসে। তালিকার প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে ফিনল্যান্ড, সাইপ্রাস, পোল্যান্ড ও স্পেনসহ আরও ছয়টি দেশ।
ইউরোপীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিটির (EESC) প্রকাশিত একটি ইনফোগ্রাফিক অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্র-সম্পর্কিত স্ট্রেস, বিষণ্নতা অথবা উদ্বেগের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে গ্রিসের হার সর্বোচ্চ, ৪৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড, যেখানে এ হার ৪৫ শতাংশ।
শীর্ষ ১০টি দেশ:
১. গ্রিস: ৪৯ শতাংশ
২. ফিনল্যান্ড: ৪৫ শতাংশ
৩. সাইপ্রাস: ৪১ শতাংশ
৪. পোল্যান্ড: ৪১ শতাংশ
৫. স্পেন: ৪০ শতাংশ
৬. এস্তোনিয়া: ৩৫ শতাংশ
৭. পর্তুগাল: ৩৪ শতাংশ
৮. বেলজিয়াম: ৩২ শতাংশ
৯. ক্রোয়েশিয়া: ৩২ শতাংশ
১০. হাঙ্গেরি: ৩২ শতাংশ
তালিকা অনুযায়ী, গ্রিস ও ফিনল্যান্ডে কর্মক্ষেত্র-সম্পর্কিত মানসিক সমস্যার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। অন্যদিকে, সাইপ্রাস ও পোল্যান্ডে এ হার ৪১ শতাংশ এবং স্পেনে ৪০ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত কাজের চাপ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চাকরির অনিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশ এবং কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যহীনতা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সহায়ক কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গুরুত্বপূর্ণ।
একটি জরিপে দেখা গেছে, নমুনার আকার, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি ও নির্দিষ্ট উৎসের বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ফলে এই পরিসংখ্যানকে সংশ্লিষ্ট জরিপের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এখানে দেখানো শতাংশগুলো কর্মক্ষেত্র-সম্পর্কিত স্ট্রেস, বিষণ্নতা অথবা উদ্বেগের হার নির্দেশ করে; এগুলোকে সরাসরি চিকিৎসাগতভাবে শনাক্ত মানসিক রোগের হার হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না।
কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এখন ইউরোপের শ্রমবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। কর্মীদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি নিয়োগকর্তা ও নীতিনির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপও প্রয়োজন।