চুয়েটে শা'টডাউ'ন প্রত্যা'হার করে ক্লাসে ফিরছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৭:৫১:৪৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৭:৫১:৪৯ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ৩৩ দিনের আন্দোলনের পর শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল এবং নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

 

রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে খোলা চিঠির মাধ্যমে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত জানান শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা শুরু হয়। বেলা ২টায় সভা শেষে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানায় শিক্ষক সমিতি।

 

খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও অচলাবস্থার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে। তারা আর নিজেদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করতে চান না। ক্লাসে ফিরে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে চান। তবে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তের অর্থ আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলনের এক দফা দাবি পূরণ করতে হবে। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আবারও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যৌক্তিক দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

 

শাটডাউন প্রত্যাহারের বিষয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বার নাইন মিহাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে আসুক। আমরা সংঘাত নয়, সংকটের সম্মানজনক সমাধান চাই। আশা করি, আমাদের শিক্ষাজীবন সচল রাখার পাশাপাশি দাবির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

 

শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, ‘আমাদের সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে ফিরতে চান বলে তারা জানিয়েছেন। আর বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে। ক্লাস শুরু কবে হবে এটা স্ব স্ব বিভাগে ঠিক করবে।’

 

যেভাবে শুরু হয় অচলাবস্থা

গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষা স্থগিত হয়।

 

উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনা

আন্দোলনের মধ্যেই গত ১২ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি।

বিষয়টি জানতে পেরে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন তারা। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার পর ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

এতে উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ১১ জন আটকা পড়েন। পরদিন উপাচার্য অসুস্থ বোধ করার কথা জানান। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দুই চিকিৎসক সেখানে যান। প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে উপাচার্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

হাসপাতাল থেকে গত বৃহস্পতিবার ফেরেন উপাচার্য। এরপর গত শুক্রবার নগরের সার্কিট হাউসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা ডাকেন তিনি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার ঘোষণা এলেও উপাচার্য পুনর্বহাল ও নতুন উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]