২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে ভাটারা থানা জামায়াতের দোয়া ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ

আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৯:৪৪:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৯:৫২:১৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক


২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি বৈঠার তাণ্ডবে নিহত শহীদদের স্মরণে দোয়া অনুষ্ঠান ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের ভাটারা থানা শাখা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের

সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাটারা থানা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাওলানা আবুল কাশেম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারিবৃন্দ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি বৈঠার সহিংসতা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তাণ্ডব থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত হাজার হাজার শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁদের শাহাদাতের মর্যাদা দান করুন। যারা আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁদের সুস্থতা দান করুন। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। সেদিন শহীদ মুজাহিদ, শিপন ও

মাসুমদের আত্মত্যাগের প্রেরণা থেকেই ২০২৪ সালের আন্দোলনে ছাত্র জনতা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। তিনি আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ আন্দোলনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন। ড. রেজাউল করিম বলেন, আমাদের প্রেরণার মিনার হচ্ছে আমাদের শহীদেরা। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার পেছনে কী ষড়যন্ত্র ছিল,তা জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানান। একই সঙ্গে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচার ও কারাবন্দি অবস্থায় মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, দমন পীড়নের মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের দমিয়ে রাখা যায় না। বক্তব্যে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে সংঘটিত জুলুম নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ছাত্র জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে মানুষের প্রত্যাশা ছিল ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা থেকে মুক্তি এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থাও ছিল মানুষের প্রত্যাশার অংশ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে পুরোনো ফ্যাসিবাদী পথ অনুসরণ করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সেই রায় বাস্তবায়িত হচ্ছে না। দেশে চাঁদাবাজি ও লুণ্ঠনের অভিযোগ তুলে ড. রেজাউল করিম বলেন, জনগণ দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট দিয়েছিল, কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আগামী দিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে।

তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মৃতি ধারণ করে স্বৈরাচার, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, আহতদের সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]