উলিপুরে জমাজমির বি'রো'ধে'র জে'রে দাদাকে ধারালো চাপাতি দিয়ে টুকরো করে ব্যাগে ভর্তি, নাতি গ্রে'ফ'তা'র

আপলোড সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:১৫:৩৬ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-১০-২০২৬ ০৩:১৯:০৯ অপরাহ্ন
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : ‎

কুড়িগ্রামের উলিপুরে মোকছেদ আলী বাচ্চু মিয়া (৬৭) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। জমাজমি বিরোধের জেরে দাদা মোকছেদ আলী বাচ্চু কে পরিকল্পিত ভাবে ধারালো চাপাতি দিয়ে গলা কেটে টুকরো করে ব্যাগে ভরিয়ে রাখেন নাতি রায়হান কবীর রাব্বি (২০)। এ ঘটনায় নিহত মোকছেদ আলীর ছেলে বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার

অভিযোগে রায়হান কবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাপাতি উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উলিপুর থানা কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বে) মো. মাসুদ রানা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। পরে ঘটনা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তাঁর মরদেহের দুই পা বিচ্ছিন্ন করে একটি সবুজ ট্রাভেলিং ব্যাগে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, গত ১৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টা থেকে ২০ অক্টোবর রাত ২টার মধ্যে কোনো এক সময় বাচ্চু মিয়াকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে আব্দুল মোতালেব মিয়া বাদী হয়ে উলিপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু করে উলিপুর থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের রেলগেট এলাকা থেকে রাব্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একাব্বর আলী ও নিহত মোকছেদ আলী ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের পন্ডিতপাড়া এলাকার সজর আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। জানা যায়, মোকছেদ আলী পরিবার নিয়ে ৪০ বছর ধরে রংপুর মাহিগঞ্জের নব্দিগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে আসছেন। সেখান থেকে প্রতি বছর উলিপুর উপজেলার ধরনীবাড়ীতে নিজ বড় ভাই একাব্বর আলীর (৭৫) বাড়িতে ঘুরতে আসেন। অন্যান্য বছরের মত সোমবার তার বড় ভাই একাব্বর আলী ছোট ভাই মোকছেদ আলীকে তার বাড়িতে ডেকে আনেন। এদিকে একই দিনে বড় ভাই একাব্বর আলী তার ৩য় ছেলে মিঠু মিয়ার পুত্র রাব্বি মিয়াকে ঢাকা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর ওই দিন রাতে পরিবারের সবাই এক সাথে খাওয়া দাওয়া শেষে দাদা মোকছেদ আলীর সাথে নাতি রাব্বি মিয়া একই কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে গভীর রাতে রাব্বি দাদা মোকছেদ আলীকে পরিকল্পিত ভাবে ধারালো চাপাতি দিয়ে তার গলা ও পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি ট্রাভেলিং ব্যাগে ভর্তি করে লুকিয়ে রাখেন।

পরে সকালে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাসুদ রানা জানান, এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (২১ অক্টোবর) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]