নিজস্ব প্রতিবেদক
লক্ষ্মীপুরে চলন্ত বাস থামিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই রাতেই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাসটি থামিয়ে যুবলীগ নেতাকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ওই নেতার নাম মেজবাহ উদ্দিন ওরফে হেলাল। তিনি রামগতি উপজেলা যুবলীগের সভাপতি। এ ছাড়া তিনি আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি (সহ-সভাপতি)। তিনি রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের পূর্ব চর কলাকোপা গ্রামের মৃত সিরাজুল হকের ছেলে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছাত্রদল নেতার নাম মো. জামাল হোসেন (৩২)। তিনি জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনায় মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় জামাল হোসেনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় জামালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। জামাল হোসেন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মজুপুর এলাকার আবু সাঈদের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ঢাকায় থেকে ইকোনো পরিবহন নামের একটি বাসে বাড়ি ফিরছিলেন মেজবাহ উদ্দিন। বাসটি লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর মোড়ে পৌঁছালে ১০ থেকে ১২ জন তাঁকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে নেন। পরে উত্তর তেমুহনী এলাকার লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের মাঠে নিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টহল দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। পরে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে সদর উপজেলার উত্তর তেমুহনী এলাকার লক্ষ্মীপুর বালিকা বিদ্যানিকেতনের মাঠ থেকে মেজবাহ উদ্দিনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জামালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন পালিয়ে যান।
আজ বুধবার বেলা তিনটার দিকে জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বারাকাত সৌরভ জানান, জামাল হোসেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। ঘটনাটি তারাও শুনেছেন। এ বিষয়টি তারা তদন্ত করছেন। তদন্তের পর দোষী সাব্যস্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।