নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই। আর ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়েছে এই বয়সী নারীদের ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউনিসেফ জানায়, বাল্যবিবাহের ফলে মেয়েদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিজেদের বিকাশ ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগও সংকুচিত হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে তিন দিনের সফর শেষে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনটি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। তার প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের ২০২৫ সালের একাধিক সূচকভিত্তিক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে সংস্থাটি জানায়, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে ইউনিসেফ।
সফরের সময় ঢাকার কড়াইল বস্তির কয়েকটি পরিবার এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ক্যাথরিন রাসেল। বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ১৪ বছর বয়সী বুশরার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।
রাসেল জানান, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা বুশরার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে উদ্যোগী হন। তাদের প্রচেষ্টায় বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা পায় মেয়েটি।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক বলেন, মেয়েদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, বরং পুরো সমাজ ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।