নিজস্ব প্রতিবেদক
ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদেশে চীনা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে চীনকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতাও বেড়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনা ও বিদেশি নাগরিকদের মোট সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চীনের জাতীয় অভিবাসন প্রশাসন প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুধবার এ বরাতে খবর প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে চীনে মোট ১৯ কোটি ২০ লাখ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে দেশটিতে বিদেশি নাগরিকদের আগমন হয়েছে ১ কোটি ১৬ লাখ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে ভিসামুক্ত প্রবেশের সংখ্যা বেড়েছে ২৪ দশমিক ১ শতাংশ। বিদেশি নাগরিকদের মোট আগমনের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশই ছিল ভিসামুক্ত প্রবেশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে বিদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের সবচেয়ে বড় তিনটি উৎসদেশ হলো রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম। এরপর রয়েছে মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
চীনের অভিবাসন ব্যুরোর মুখপাত্র লু নিং বলেন, দেশটির সম্প্রসারিত একতরফা ও স্বতন্ত্র উন্মুক্তকরণ নীতি আন্তসীমান্ত ভ্রমণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি, আরও বেশি দেশ চীনা নাগরিকদের ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায় বিদেশ ভ্রমণও বাড়ছে।
গত কয়েক বছরে চীন কয়েক ডজন দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে অর্থনীতিকে চাঙা করতে চাইছে বেইজিং।
চীনের স্টেট কাউন্সিল ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১৯ কোটি বিদেশি পর্যটক আগমনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে বিদেশি পর্যটকদের বার্ষিক ব্যয় ১৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটন খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করাই চীনের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।