কক্সবাজারে ৯০ শতাংশ আবাসনে নেই লাইসেন্স, অ'গ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৮:২৭:০২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৮:২৭:০২ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে পর্যটনশিল্প। প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের সেবায় সৈকতসংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কয়েকশ বহুতল ভবন। শুধু কলাতলী থেকে লাবণী পর্যন্ত দুই-এক বর্গকিলোমিটার এলাকাতেই যেনতেনভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় চার শতাধিক বহুতল ভবন। আর ৩২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই শহরে ভবনের সংখ্যা আরও সাড়ে তিন হাজারের বেশি। নিয়ম অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের আগেই নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া এবং নকশা অনুমোদন করানো প্রয়োজন।

 

কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, পর্যটন জোন, মেরিন ড্রাইভের আশপাশ এবং শহরে গড়ে ওঠা প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনেই পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও।এ অবস্থায় হোটেল-মোটেলসহ চার হাজারেরও বেশি বহুতল ভবন এখন অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও নিরাপত্তাঝুঁকিতে রয়েছেন।

 

কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ চলছে।

 

এদিকে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ১০ জনের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শহর থেকে মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ইনানীর পাটুয়ারটেকে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে গড়ে ওঠা টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টসহ শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে। পরিবেশবান্ধব উপকরণে নির্মিত এসব স্থাপনার অনেকগুলোরই নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। নেই ফায়ার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। এমনকি রিসোর্ট নির্মাণে নেওয়া হয়নি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও। ব্যবসা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের ব্যবসা ও বাণিজ্য শাখা থেকেও নেওয়া হয়নি অনুমোদন। শুধু পাটুয়ারটেকের রিসোর্ট ও কটেজ নয়, প্রশাসনিক তদারকির অভাবে এভাবেই অনুমোদন ছাড়াই চলছে কক্সবাজার জেলার প্রায় ৫০০ হোটেল, মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ।

 

জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলা শহর, রামুর পেচারদ্বীপ ও উখিয়ার ইনানীসহ আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় মিলিয়ে সহস্রাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধু ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

কক্সবাজার হোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘আমাদের সমিতির তালিকাভুক্ত প্রায় সব হোটেলেরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে। তবে কক্সবাজারের বেশির ভাগ রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন নেই। তারা কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা করে না। যেসব হোটেল-গেস্ট হাউসের অনুমোদন নেই, তাদের আমরা সমিতির অন্তর্ভুক্ত করিনি। প্রশাসনের উচিত এসব প্রতিষ্ঠানকে একটি নিয়মের মধ্যে এনে পর্যটনশিল্পকে এগিয়ে নেওয়া।’

 

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোন ছাড়াও শহরের টেকপাড়া, নুরপাড়া, পেশকারপাড়া, ঝাউতলা, নতুন বাহারছড়া, বাহারছড়া, রুমালিয়ারছড়া, পাহাড়তলী, বইল্ল্যাপাড়া, ঘোনারপাড়া ও লাইট হাউস পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবনগুলো এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে রাস্তা বলতে রয়েছে মাত্র কয়েক ফুট প্রশস্ত পথ। এসব পথ এতটাই সরু যে রিকশা চলাচল করাও কঠিন। আশপাশে নেই কোনো জলাশয়ও। এ অবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে সহজেই আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

 

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরে আমাদের কাছ থেকে মাত্র ৫০টি হোটেল লাইসেন্স নবায়ন করেছে। তবে আবেদন জমা পড়েছে সর্বোচ্চ ১০০টি। এর আগে প্রায় ২০০টি হোটেলের লাইসেন্স ছিল। এ কারণে আমরা অধিকাংশ হোটেলকে নোটিশ দিয়েছি।’

 

তিনি বলেন, জনবলসংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। এরপরও লাইসেন্স নেওয়ার জন্য মালিকদের নোটিশ পাঠানো হয়। তবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় যদি ফায়ার লাইসেন্স আছে কি না, তা যাচাই করা হয়, তাহলে বেশির ভাগ স্থাপনার মালিকই লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন।

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বিভিন্ন বৈঠকে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সচেতন না হলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।

 

তার মতে, ইনানীর দুর্ঘটনার শিকার রিসোর্টটিকে দুইবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সতর্ক হয়নি, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও নেয়নি। ব্যবসায়ীদের সচেতন না হলে শুধু আইন প্রয়োগ করে দুর্ঘটনা রোধ করা অসম্ভব। শুধু ফায়ার লাইসেন্স নয়, কক্সবাজারের অধিকাংশ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁয় পয়োবর্জ্য শোধনাগার বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেয়নি।

 

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ মোর্শেদ বলেন, ‘জেলায় সর্বোচ্চ ৫০টি হোটেলের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে। ছাড়পত্র না থাকার কারণে গত বছর ৫৮টি হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ, রিসোর্ট ও কটেজকে প্রায় দেড় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে ইসিএ এলাকায় অবস্থিত শতাধিক হোটেলের বিরুদ্ধে ২৮টি মামলাও করা হয়।’

 

তিনি বলেন, সাধারণত ২০ কক্ষের কমসংখ্যক কক্ষবিশিষ্ট আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র লাগে না। এ ছাড়া ৩০ লাখ টাকার কম ব্যয়ে চালু করা রেস্তোরাঁর ক্ষেত্রেও অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কিছু ব্যবসায়ী এই সুযোগটিই কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

 

তথ্য বলছে, কক্সবাজারকে ঘিরে মাস্টারপ্ল্যান ঘোষণার আগে পৌর শহরে যেকোনো ভবন নির্মাণে পৌরসভার অনুমোদন নিতে হতো। সে সময় পরিবেশ অধিদপ্তর, গণপূর্ত, জনস্বাস্থ্য ও ফায়ার সার্ভিসসহ সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর অনুমোদন নেওয়া হতো না। অনুমোদন দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে বিল্ডিং কোড না মেনেই নিজেদের ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করেছেন ভূস্বামীরা। অনেকে তিন বা পাঁচতলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে নির্মাণ করেছেন পাঁচ বা সাততলা ভবন। এভাবেই অপরিকল্পিত নগরীতে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার শহর।

 

নগর পরিকল্পনাবিদেরা জানান, ২০০৮ সালে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১১ সালে। ২০১৩ সালে গেজেট প্রকাশের আগপর্যন্ত ভবন নির্মাণে পৌরসভা থেকে অনুমোদন নেওয়া হতো। সে সময় মালিকেরা অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করেছেন। কেউই আইনের তোয়াক্কা করেননি। মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের আগপর্যন্ত জেলায় ৫৮ হাজার ১৩টি স্থাপনার তথ্য ছিল। অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণের মাশুল ভবনমালিকদের দিতে হতে পারে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

 

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০টি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোটেল জোনের একটি তারকা হোটেলের পরিচালক বলেন, ‘পাটুয়ারটেকের ঘটনাটি কক্সবাজারের জন্য অনভিপ্রেত এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সমস্যা হলো, এমন কোনো অঘটন ঘটলেই প্রশাসনের বিভিন্ন মহল নড়েচড়ে বসে। যাদের লাইসেন্স আছে বা যারা নিয়মকানুন কিছুটা হলেও মানে, তাদেরই চাপে রাখা হয়। কিন্তু যাদের কারণে পর্যটন খাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তাদের নিয়মের মধ্যে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয় না। বরং ভয় দেখিয়ে সুবিধা আদায় করেই অনেকে খুশি হন। আইনকানুন ও নিয়মনীতি যেন শুধু তারকা মানের হোটেলগুলোর ওপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘এত নিয়মকানুন মেনে চলতে গিয়ে খরচও বেড়ে যায়। কিন্তু এমন অনেক তথাকথিত রিসোর্ট আছে, যারা এসবের ধার ধারে না। প্রশাসনও কখনো তাদের তদারকি করে না। যত তদারকি, সব যেন তারকা মানের হোটেলগুলোর জন্যই!’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের স্বার্থে নিয়মকানুন মেনে চলব। তবে পর্যটনের স্বার্থে সবাইকে নিয়মের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

 

কক্সবাজার উন্নয়ন আন্দোলনের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ রুবেল বলেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটলেই প্রশাসন নড়েচড়ে বসে, তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু এর আগে তারা কোথায় থাকে? জেলায় কতগুলো আবাসিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার হিসাবও প্রশাসনের কাছে নেই! অথচ পর্যটন সেল, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটিসহ কত ধরনের কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির কাজ কী?’

 

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘সরকারের উচিত প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত করা। কীভাবে অনুমোদন ও ফায়ার লাইসেন্স ছাড়া এতগুলো প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন ব্যবসা করছে, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।’

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি বা ভবনমালিকেরা নিজেদের স্বার্থে পর্যাপ্ত জায়গা ও রাস্তা না রেখেই ইচ্ছেমতো ভবন নির্মাণ করেছেন। এখানে নিজেদের স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়নি। রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া আশপাশে নেই কোনো পুকুর, ডোবা কিংবা নালা, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কক্সবাজারে কয়েকটি হোটেল ছাড়া প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। যেসব ভবনে ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোরও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। ফলে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজারের উপপরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ বলেন, ‘কক্সবাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো হোটেল-রিসোর্ট গড়ে উঠছে। কতটি হোটেল বা আবাসন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান কোথাও নেই। তবু আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সবাইকে নিরাপত্তার আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

 

কক্সবাজার পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে কোনো জরিপ হয়নি। মাস্টারপ্ল্যান হওয়ার পর বিষয়টি কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) তদারকিতে রয়েছে। তবে জনস্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে পৌরসভা।

 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরোধক দরজা নেই, স্মোক ডিটেক্টর অকেজো, ফায়ার এক্সটিংগুইশার অপর্যাপ্ত, হোটেলের আয়তন অনুযায়ী পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই কিংবা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চূড়ান্ত সনদ নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন জানান, মেরিন ড্রাইভ এলাকায় কয়েকশ প্রতিষ্ঠান থাকায় সেগুলোর অনুমোদন যাচাইয়ে সময় লাগছে। ইতিমধ্যে যাচাই করা আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে বৈধতা নিশ্চিত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

 

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান অধিকাংশ হোটেল-গেস্ট হাউস, রিসোর্ট ও কটেজের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, পর্যটন করপোরেশন, কউক ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে। এরপর সেখান থেকে যে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা আসবে, তা বাস্তবায়ন করা হবে।’

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]