অবশেষে মিটল প্রবাসফেরত ছেলে ও বাবার বি'রো'ধ, যে সিদ্ধান্ত হলো

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৪:১০:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৪:১০:২১ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেনীর সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে বসতবাড়ি নিয়ে প্রবাসফেরত বাবা ও ছেলের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের অবসান হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সমঝোতায় পৌঁছেছেন কুয়েতপ্রবাসী জামাল উদ্দিন ও তাঁর সৌদিপ্রবাসী ছেলে নজরুল ইসলাম রাব্বি।

 

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ সমঝোতা হয়। এতে ছেলেমেয়ের জন্য জমি কিনে দেওয়া, কাবিনের বকেয়া অর্থ পরিশোধ এবং চলমান মামলা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শর্শদী ইউনিয়নের বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের প্রথম সংসারের সন্তান নজরুল ইসলাম রাব্বি। বসতবাড়িতে থাকা ও ঘর দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেও পারিবারিক বিরোধের কারণে বাবার বাড়িতে প্রবেশ করতে পারেননি রাব্বি।

 

এ নিয়ে বাবা ও ছেলে পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। একপর্যায়ে দুজনই নিজেদের বাড়িতে থাকতে না পেরে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। রাব্বি তাঁর চাচার দোকানে রাত কাটাতেন। অন্যদিকে, তাঁর বাবা শহরের শাহিন একাডেমির একটি ভাড়া বাসায় থাকছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

 

সমস্যা সমাধানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং জেলা প্রশাসকের পরামর্শে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাবা-ছেলে ছাড়াও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শুনানি শেষে উভয় পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী এক বছরের মধ্যে শর্শদী বাজারের আশপাশে রাস্তার পাশে বা রাস্তা-সংলগ্ন এলাকায় ছেলে নজরুল ইসলাম রাব্বি ও মেয়ে রাবেয়া আক্তার রাফির জন্য মোট ছয় শতক জমি কিনে দেবেন জামাল উদ্দিন। এ শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ৭৭১ নম্বর হোল্ডিংয়ের বাড়িটি বিক্রি করা যাবে না।

 

সমঝোতা অনুযায়ী, জামাল উদ্দিন তাঁর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিবি ফাতেমার কাবিনের বকেয়া বাবদ ছয় লাখ টাকা আগামী বছরের ২০ জানুয়ারির মধ্যে পরিশোধ করবেন। এ ছাড়া উভয় পক্ষ আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে চলমান সব মামলা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করে নেবেন।

 

সমঝোতার বিষয়ে নজরুল ইসলাম রাব্বি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় বাবা-ছেলের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। তাঁকে বাড়িতে থাকার জায়গা না দেওয়ায় অন্যত্র বসবাসের জন্য জমি কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো বাড়ি বিক্রি না করার শর্তও রয়েছে। তিনি প্রাথমিকভাবে সমঝোতার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন। তবে তাঁর বাবা সিদ্ধান্তগুলো কতটা বাস্তবায়ন করেন, তা দেখার পর পরবর্তী মতামত জানাবেন।

 

জামাল উদ্দিনও পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সমঝোতা অনুযায়ী নিজের করণীয় দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দেন।

 

ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা জানান, শনিবার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় লিখিত সমঝোতা হয়েছে। ভবিষ্যতে শান্তি বজায় রেখে পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে চলার অঙ্গীকার করেছেন তাঁরা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]