শারদীয় শুভেচ্ছা জানানো কি জায়েজ নাকি হারাম? ইসলামের বিধান কী

আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৩:৪৮:১৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৩:৪৮:১৭ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কিংবা উপহার বিনিময় করা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এসব কর্মকাণ্ডের বিধান কী, তা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ফতোয়ায় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এতে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো এবং উৎসবের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়াকে নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফতোয়াটিতে পূজার শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়ে শরিয়তের বিধান জানতে চাওয়া হয়। জবাবে মুফতি ও মুহাদ্দিস সাইদুজ্জামান কাসেমি ইসলামী চিন্তাবিদ ইবনুল কাইয়্যেম ও শায়খ ইবনে উছাইমীনের বক্তব্যের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

 

ফতোয়ায় বলা হয়েছে, খ্রিষ্টানদের বড়দিনসহ অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো ইসলামে নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যেম তাঁর ‘আহকামু আহলিয যিম্মাহ’ গ্রন্থে অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে অভিনন্দন জানানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন।

 

ফতোয়াটিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কাউকে অভিনন্দন জানানো সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় বিশ্বাস বা আচারকে সমর্থন করার শামিল হতে পারে। এ কারণে মুসলমানদের এমন শুভেচ্ছা জানানো থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা যুমারের ৭ নম্বর আয়াত এবং সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম আয়াতে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরিকে পছন্দ করেন না বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে সূরা মায়েদার ৩ নম্বর আয়াতে ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করার কথা বলা হয়েছে।

 

ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, অমুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানালে তার জবাব দেওয়ার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্য ধর্মের উৎসবের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, উৎসব উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা, উপহার বিনিময়, মিষ্টান্ন বিতরণ কিংবা উৎসবকেন্দ্রিক ছুটি উদ্‌যাপনের মতো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।

 

ফতোয়াটিতে ধর্মীয় উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণকে শুভেচ্ছা জানানোর চেয়েও গুরুতর বিষয় হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কারণ, এতে সংশ্লিষ্ট ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত ‘যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’—এই বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। ফতোয়ায় বলা হয়েছে, সামাজিক সৌজন্য, সম্পর্ক রক্ষা কিংবা সংকোচের কারণে কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও তা সংশ্লিষ্ট কাজের ধর্মীয় বিধান পরিবর্তন করে না।

 

ফতোয়াটির শেষে শায়খ ইবনে উছাইমীনের ‘মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল’ গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ডের ৩৬৯ পৃষ্ঠার উল্লেখ করা হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, এটি নির্দিষ্ট একটি ফতোয়ায় তুলে ধরা মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদন। এ বিষয়ে বিস্তারিত ধর্মীয় সিদ্ধান্তের জন্য যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]