নিজস্ব প্রতিবেদক
দুর্বৃত্তদের গুলি থেকে বাঁচতে দৌড়ে পালানোর সময় শাকিল ইসলাম (২৩) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া করে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নওশিন জাহান বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর শহরের চাঁচকৈড় খোয়ারপাড়া গ্রামের রবিউল মিস্ত্রির ছেলে। তিনি গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা যায়নি।
আহত শাকিল ইসলাম বলেন, রাত ৯টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে বাজারপাড়া এলাকার নূর একাডেমির কাছে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। গুলি থেকে বাঁচতে তিনি দৌড় দেন। গুলি তার শরীরে না লাগলেও দুর্বৃত্তরা পেছন থেকে তাকে ধাওয়া করেন।
তিনি বলেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দুলাল সরকারের বাড়ির কাছে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার আগেই মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। হামলাকারীদের কাউকেই তিনি চিনতে পারেননি। কাউকে সন্দেহও করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান বলেন, বাজারপাড়ার শহীদা জলিল স্কুলের কাছে পরপর দুটি গুলির শব্দ শুনতে পান তারা। এগিয়ে গেলে ছাত্রদল নেতা শাকিলকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। তার পেছনে মোটরসাইকেলে করে দুই ব্যক্তি ধাওয়া করছিলেন। কিছুক্ষণ পর রক্তমাখা অস্ত্র নিয়ে হামলাকারীদের ফিরে যেতে দেখেন তারা। এ সময় শহীদা জলিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে শাকিলকে চিৎকার করতে দেখা যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহত ছাত্রদল নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।