মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি,
শেরপুর সদর হাসপাতালে নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ১৬ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা। দেশের সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের ৫ উপজেলার প্রায় ১৬ লাখসহ কুড়িগ্রামের রৌমারীও রাজিবপুর, জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের ফুলপুর ও হালুয়াঘাট উপজেলা আরো প্রায় চার লক্ষাধিক সহ প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ কেবলমাত্র কাগজে-কলমে ২৬৫ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে জেলা সদরের ১০০ শয্যা সদর হাসপাতালটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। কিন্তু উদ্বোধন ৭ বছর অতিবাহিত হলেও হাসপাতালটির শূন্য পদে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, দালালদের দৌরাত্ম্য, যন্ত্রাদী বিকল, কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সেবা না দেয়ার মানসিকতাসহ নানাকারণে যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই জেলাসহ আরো প্রায় তিনটি জেলার মানুষ।সরকারি আদেশ দেখুন ফলে হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই ছুটছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। শেরপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন। এর মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন দুইজন। বাকি চিকিৎসকের পদই শূন্য। চিকিৎসকদের ৫৮ পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০টির নয়টি শূন্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট ১৩টির মধ্যে ৮টি, আর এস পদে একটির মধ্যে ১টি এবং অ্যানেসথেটিস্ট তিনটি পদের মধ্যে একটি শূন্য।
এছাড়া একটি রেডিওলজিস্ট পদের মধ্যে একটিই শূন্য, চারটি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে একটি, রেজিস্ট্রার ৯টি পদের মধ্যে পাচটি পদই শূন্য রয়েছে।এদিকে ৮৭ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। বাকি পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য অবস্থায় আছে। ১৯৮৪ সালে সীমান্তবর্তী অঞ্চল শেরপুরকে জেলায় উন্নীত করা হয়। তখনও জেলা সদর হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার। দীর্ঘদিন পর তা ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও রাজস্ব খাতে ছিল ৫০ শয্যাই। পরে জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয় এরপর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক এবং হাসপাতালের পাশে এক একর ১০ শতাংশ জমির উপর ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আট তলা ভবনের প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত বিভাগ। পরে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। জনবলসহ নানা সুযোগ সুবিধা যুক্ত না করেই তড়িঘড়ি উদ্বোধনের পর থেকেই নানান জটিলতায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চলছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে। আর এতেই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটির আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ জেলার বাসিন্দারা। অথচ এই হাসপাতালে প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নেয় এবং ভর্তি থাকে। হলে বেড তো দূরের কথা হাসপাতালের কক্ষ ও বারান্দাতেও ঠাই হয় না রোগীদের।
জানা গেছে যে, রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এছাড়া দুপুর ২টার পরে শুধু জরুরি বিভাগে মাত্র একজন চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলে কঠিন। রোগীর চাপে ওয়ার্ডে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না নার্সরা। যারাও দায়িত্ব পালন করছেন তাদের ব্যবহারও রোগীদের সাথে খুবই খারাপ ও অসন্তোষজনক এ অভিযোগ রোগি ও তাদের স্বজনদের। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য স্বল্প মূল্যে সরকারিভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালে তেমন কোনো পরীক্ষা করানো যায় না। তাই বাধ্য হয়েই দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয় রোগীদের। এতে বিড়ম্বনায় পড়েন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসার আশায় আসা নালিতাবাড়ী উপজেলার বৃদ্ধ আব্দুল হক জানান, গত (১৩ অক্টোবর) বিকেলের দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আজ দুপুরে ওয়ার্ডে ডাক্তার আসছে। যদি ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার পেতাম তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো। সদর উপজেলার কামারের চর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন জানান, আমাদের শেষ ভরসা শেরপুর সদর হাসপাতাল। ডাক্তার ঠিকমতো আসে না। এতে আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এছাড়া সবগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা যদি হাসপাতালেই করাতে পারতাম তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হতো। ডাক্তার ওয়ার্ডে এসে শুধু টেস্ট লিখে দিচ্ছেন। এখন প্রাইভেট ক্লিনিকে টেস্ট করতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোগী জানান, হাসপাতালে চুরির ভয় দিন দিন বাড়তেছে। গেল দিনও আমার পাশের রোগীর মোবাইল চুরি হয়ে গেছে।
সেই সাথে দালালরা হাসপাতালেও এসে পড়ে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সাজ্জাদ হোসেনকে ১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তার চেম্বারে না পেয়ে বারবার ফোন করেও (০১৭০১২৪৮২২০) পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
শেরপুর সদর হাসপাতালে নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ১৬ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা। দেশের সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের ৫ উপজেলার প্রায় ১৬ লাখসহ কুড়িগ্রামের রৌমারীও রাজিবপুর, জামালপুরের বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের ফুলপুর ও হালুয়াঘাট উপজেলা আরো প্রায় চার লক্ষাধিক সহ প্রায় ২০ লক্ষাধিক মানুষ কেবলমাত্র কাগজে-কলমে ২৬৫ শয্যার এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে জেলা সদরের ১০০ শয্যা সদর হাসপাতালটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। কিন্তু উদ্বোধন ৭ বছর অতিবাহিত হলেও হাসপাতালটির শূন্য পদে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, দালালদের দৌরাত্ম্য, যন্ত্রাদী বিকল, কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সেবা না দেয়ার মানসিকতাসহ নানাকারণে যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এই জেলাসহ আরো প্রায় তিনটি জেলার মানুষ।সরকারি আদেশ দেখুন ফলে হাসপাতালে এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে অনেকেই ছুটছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে। শেরপুর সদর হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন। এর মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আছেন দুইজন। বাকি চিকিৎসকের পদই শূন্য। চিকিৎসকদের ৫৮ পদের মধ্যে সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০টির নয়টি শূন্য, জুনিয়র কনসালটেন্ট ১৩টির মধ্যে ৮টি, আর এস পদে একটির মধ্যে ১টি এবং অ্যানেসথেটিস্ট তিনটি পদের মধ্যে একটি শূন্য।
এছাড়া একটি রেডিওলজিস্ট পদের মধ্যে একটিই শূন্য, চারটি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে একটি, রেজিস্ট্রার ৯টি পদের মধ্যে পাচটি পদই শূন্য রয়েছে।এদিকে ৮৭ জন নার্সের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৮ জন। বাকি পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য অবস্থায় আছে। ১৯৮৪ সালে সীমান্তবর্তী অঞ্চল শেরপুরকে জেলায় উন্নীত করা হয়। তখনও জেলা সদর হাসপাতালটি ছিল ৫০ শয্যার। দীর্ঘদিন পর তা ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও রাজস্ব খাতে ছিল ৫০ শয্যাই। পরে জেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয় এরপর শহরের নারায়ণপুর এলাকায় ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন সরকারদলীয় হুইপ আতিউর রহমান আতিক এবং হাসপাতালের পাশে এক একর ১০ শতাংশ জমির উপর ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে আট তলা ভবনের প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত বিভাগ। পরে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। জনবলসহ নানা সুযোগ সুবিধা যুক্ত না করেই তড়িঘড়ি উদ্বোধনের পর থেকেই নানান জটিলতায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চলছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে। আর এতেই ২৫০ শয্যার হাসপাতালটির আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ জেলার বাসিন্দারা। অথচ এই হাসপাতালে প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নেয় এবং ভর্তি থাকে। হলে বেড তো দূরের কথা হাসপাতালের কক্ষ ও বারান্দাতেও ঠাই হয় না রোগীদের।
জানা গেছে যে, রোগীদের চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। এছাড়া দুপুর ২টার পরে শুধু জরুরি বিভাগে মাত্র একজন চিকিৎসক ব্যতীত অন্য কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলে কঠিন। রোগীর চাপে ওয়ার্ডে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না নার্সরা। যারাও দায়িত্ব পালন করছেন তাদের ব্যবহারও রোগীদের সাথে খুবই খারাপ ও অসন্তোষজনক এ অভিযোগ রোগি ও তাদের স্বজনদের। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য স্বল্প মূল্যে সরকারিভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালে তেমন কোনো পরীক্ষা করানো যায় না। তাই বাধ্য হয়েই দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয় রোগীদের। এতে বিড়ম্বনায় পড়েন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসার আশায় আসা নালিতাবাড়ী উপজেলার বৃদ্ধ আব্দুল হক জানান, গত (১৩ অক্টোবর) বিকেলের দিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। আজ দুপুরে ওয়ার্ডে ডাক্তার আসছে। যদি ২৪ ঘণ্টা ডাক্তার পেতাম তাহলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো। সদর উপজেলার কামারের চর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন জানান, আমাদের শেষ ভরসা শেরপুর সদর হাসপাতাল। ডাক্তার ঠিকমতো আসে না। এতে আমরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। এছাড়া সবগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা যদি হাসপাতালেই করাতে পারতাম তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হতো। ডাক্তার ওয়ার্ডে এসে শুধু টেস্ট লিখে দিচ্ছেন। এখন প্রাইভেট ক্লিনিকে টেস্ট করতে হবে। হাসপাতালে ভর্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রোগী জানান, হাসপাতালে চুরির ভয় দিন দিন বাড়তেছে। গেল দিনও আমার পাশের রোগীর মোবাইল চুরি হয়ে গেছে।
সেই সাথে দালালরা হাসপাতালেও এসে পড়ে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ সাজ্জাদ হোসেনকে ১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত তার চেম্বারে না পেয়ে বারবার ফোন করেও (০১৭০১২৪৮২২০) পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।