নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণহত্যার বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকেই আওয়ামী লীগ প্রবাসে বসে উসকানি, অপপ্রচার ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে তিনি এমন কথা জানান।
নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হেনস্তা ও আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, হুইলচেয়ারে থাকা একজন ব্যক্তিকে ঘিরে ধরে তাঁর চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা এবং আক্রমণাত্মক স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক মর্যাদার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে। আওয়ামী লীগের এ ধরনের আচরণ তাদের দীর্ঘদিনের অসহিষ্ণু ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশে-বিদেশে জুলাইয়ের নেতৃত্ব ও শক্তিকে হেনস্তা এবং অপদস্থ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জেনেভা, লন্ডন ও নিউইয়র্কে জুলাইয়ের নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনাগুলো একই ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত বহন করে।
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, ‘জুলাই গণহত্যা ও দীর্ঘদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার ভয় থেকে তারা প্রবাসে বসেও বিভ্রান্তি, অপপ্রচার, উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে।’
তিনি বলেন, এসব অপতৎপরতার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা যাবে না। গণহত্যার বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রশ্নে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
নিউইয়র্কের ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ। একই সঙ্গে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বসহ জুলাই গণহত্যার মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা, আইনি সহযোগিতা ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, সরকার কেবল বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কূটনৈতিক তৎপরতা ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও জবাবদিহির আকাঙ্ক্ষা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রকে দৃঢ় ভূমিকা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার এবং জুলাই গণহত্যার দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।