নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের তোপের মধ্যেই তামিলনাড়ুর চেন্নাই সফরে গেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোববার (১১ অক্টোবর) চেন্নাইয়ে পৌঁছে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ মূল্যের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন তিনি।
সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়।
বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার পরই সংক্ষিপ্ত এক রোড শোতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় বিমানবন্দরের কাছে ব্যারিকেডের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
মোদির গাড়িবহর যাওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে অপেক্ষমাণ কর্মী-সমর্থকেরা ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দরের সংলগ্ন রাস্তায় ঐতিহ্যবাহী নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করে তামিলনাড়ুর রাজ্য বিজেপি।
রোড শো শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িবহর সরাসরি চেন্নাই মেট্রোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। চেন্নাই মেট্রো রেলের দ্বিতীয় পর্যায়ের চতুর্থ করিডরের পুনামাল্লি-ভাদাপালানি অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় যৌথভাবে নতুন মেট্রো পরিষেবার সূচনা করেন এবং একই ট্রেনে ভ্রমণ করেন। নতুন চালু হওয়া এই পথে মোট ১১টি উড়াল মেট্রো স্টেশন রয়েছে। প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি চালুর মাধ্যমে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রী যখন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করছেন, তখন রাজধানী নয়াদিল্লিতে তীব্র অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছিল। শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশজুড়ে রাজনীতিবিদ, অভিনয়শিল্পীসহ তিন হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে পুলিশ আটক করে এবং গভীর রাতে তাদের ছেড়ে দেয়।
দিল্লির প্রাণকেন্দ্র যন্তর মন্তরে বিশৃঙ্খলা ও বড় ধরনের জমায়েত ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের বাধার কারণে বিক্ষোভকারীরা এক জায়গায় জড়ো হতে না পারলেও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখেন।