এসএমই খাতে অর্থায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অগ্রাধিকার

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ১০:০৬:১৮ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ১০:০৮:১৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক


ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) অর্থায়ন বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা। উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোতে বিনিয়োগের ঘাটতি কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করার কৌশলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘বেসরকারি মূলধনকে কাজে লাগানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আগামী ১২ থেকে ১৬ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ওই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে।


সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এবারের সভায় তিনটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে —উন্নয়ন অর্থায়নে বেসরকারি মূলধনের ব্যবহার বাড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ডিজিটাল তথ্য ব্যবহার করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অর্থায়ন সহজ করা। সভাকে সামনে রেখে গণমাধ্যমকে এক বার্তায় বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি বেসরকারি মূলধন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ গ্যারান্টি দিয়েছে সংস্থাটি। নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক।


সংস্থাটির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে পর্যাপ্ত ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা জরুরি। এ জন্য শুধু সরকারি অর্থ বা উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদেরও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ট্রিলিয়ন ডলারের বেসরকারি মূলধন বিনিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। আরও পড়ুন বার্ষিক সভায় বেসরকারি বিনিয়োগে গুরুত্ব দেবে বিশ্বব্যাংক ইউরোপের বাজারে চীনের দাপট, বাণিজ্য ঘাটতি দিনে ১০০ কোটি ইউরো ব্যাংকখাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বিজ্ঞাপন সাশ্রয়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় নতুন কাজের সুযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিও এবারের সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। আগামী ১২ অক্টোবর ‘স্মল এআই : মোর অ্যান্ড বেটার জবস’ শীর্ষক অধিবেশনে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবহারযোগ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করবেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যয়বহুল প্রযুক্তির পরিবর্তে ছোট ও সাশ্রয়ী এআই সরঞ্জাম কীভাবে ব্যবসা, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থানে কাজে লাগানো যায়, তা আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। এআই যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না হয়ে দাঁড়ায়। বরং কম খরচে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ব্যবসার ব্যয় কমানো এবং নতুন কাজের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন খাতে অর্থায়নের প্রয়োজন রয়েছে। এই বিনিয়োগযোগ্য মূলধনকে উন্নয়নশীল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করাই বিশ্বব্যাংকের অন্যতম লক্ষ্য। বিশ্বব্যাংকের এবারের বার্ষিক সভায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের (এমএসএমই) অর্থায়ন সংকট মোকাবিলায় ডিজিটাল তথ্য ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। আগামী ১৩ অক্টোবর ‘এমএসএমই ফাইন্যান্স : লিভারেজিং ডেটা ফর জবস’ শীর্ষক অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান উৎস। কিন্তু পর্যাপ্ত ব্যাংকিং নথি, জামানত ও আর্থিক তথ্যের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশ প্রয়োজনীয় ঋণ পায় না। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতি পরিবর্তনে ডিজিটাল লেনদেন, ব্যবসার আয়-ব্যয়ের তথ্য এবং অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা মূল্যায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। এতে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহজে ঋণ পান না, তাদের অর্থায়নের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই অধিবেশনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ ও আর্থিক খাতের নেতারা অংশ নেবেন। আর আগামী ১৪ অক্টোবর ‘আনলকিং ইনভেস্টমেন্ট ইন ইমার্জিং মার্কেটস টু ক্রিয়েট জবস’ শীর্ষক অধিবেশনে এ বিষয়ে আলোচনা হবে।


এতে বেসরকারি বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো, নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ এবং বিনিয়োগের উপযোগী প্রকল্প তৈরির মতো বিষয় গুরুত্ব পাবে। বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, নিজস্ব অর্থায়ন ও গ্যারান্টির মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো গেলে উন্নয়ন প্রকল্পে তুলনামূলক বেশি মূলধন যুক্ত করা সম্ভব হবে। সমাপনী অধিবেশন ও পরবর্তী সিউল সামিট আগামী ১৬ অক্টোবর বার্ষিক সভার সমাপনী প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ সংস্থাটির ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই আগামী ১৯ থেকে ২২ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্লোবাল এআই অ্যান্ড ডিজিটাল সামিট’। সেখানে ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে উন্নয়ন ও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে। ফলে ব্যাংককের বার্ষিক সভার আলোচনার ধারাবাহিকতা সিউলের সম্মেলনে প্রযুক্তির সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হবে। বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার বিকাশও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি মূলধনকে উন্নয়ন অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত করার কৌশল বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গেলে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।


একইভাবে ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করা গেলে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতা বাড়তে পারে। এর জন্য ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাও জরুরি।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]