স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও বাজেট বাড়িয়েছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৮:৪৯:০৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৮:৫০:২৫ অপরাহ্ন
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:


স্বাস্থ্য খাতের পুনর্গঠন ও চিকিৎসাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার সুনির্দিষ্ট সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি বাজেট বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান, স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজশাহীর একটি হোটেলে ইউনিসেফের সহযোগিতায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর আয়োজিত স্বাস্থ্য কর্মসূচির বিভাগীয় পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি টিকাদান ও ই-ট্র্যাকারসহ রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।


স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এ কর্মসূচির আওতা বেড়েছে। তবে ইপিআই ও এইচপিভি টিকাদানে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না। নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হলে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যার আধুনিক হাসপাতালে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সাভারে আধুনিক হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য প্রশাসকদের বাজেট ব্যবস্থাপনা, ই-জিপি, মানবসম্পদ পরিচালনা ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ই-হেলথ অটোমেশন চালুর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছানোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর রোগ নির্ণয়ের সুযোগ বাড়াতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক


প্যাথলজিক্যাল ল্যাব স্থাপন এবং অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এনসিডি কর্নার শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রান্তিক পর্যায়ে জনবলসংকট নিরসনের তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী বিভাগের যেসব জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে আইনি বাধা দূর করে শূন্যপদ পূরণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। চিকিৎসক পদায়নে আঞ্চলিক সমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে গণমাধ্যমকর্মীদের গঠনমূলক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল হক মিলন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহা. জাওয়াদুল হক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার রেজাউল আলম সরকার, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের


পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম এবং ইউনিসেফের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ। কর্মশালায় বিভাগ থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত স্বাস্থ্য কর্মসূচির অগ্রগতি, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।#

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]