হাতি চলাচলে সীমান্তের বেড়া খুলতে ভারতকে অনুরোধ করা হবে: পরিবেশমন্ত্রী

আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২৭:৪২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২৭:৪২ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

শেরপুরের গারোপাহাড়ে বিচরণরত বন্যহাতি সুরক্ষায় আন্তর্দেশীয় করিডর চালু করতে আগের প্রটোকল অনুসারে শিগগিরই ভারতের সঙ্গে সংলাপ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আওয়াল মিন্টু।

 

তিনি বলেছেন, মেঘালয় থেকে আসা শতাধিক বন্যহাতি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কারণে নিজ দেশে ফিরতে না পেরে শেরপুরের গারোপাহাড়ে আটকা পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে সীমান্তের গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। পাশাপাশি শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

শনিবার (১০ অক্টোবর) শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব নিরসন ও বন্যহাতি সংরক্ষণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, শেরপুরের অপরূপ গারোপাহাড়, বন্যহাতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনের হাব গড়ে তোলা হবে। এর ফলে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনের পথ তৈরি হবে।

 

শেরপুর জেলা প্রশাসন ও ময়মনসিংহ বন বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এতে শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ইআরটি সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও হাতি সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

 

স্বাগত বক্তব্যে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, শেরপুর জেলার বনাঞ্চলে ১৩০ থেকে ১৪০টি বন্যহাতি বিচরণ করছে। এসব হাতির চলাচল ও খাদ্য সংকটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

 

তিনি জানান, হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণ ও মানুষ-হাতির সংঘাত মোকাবিলায় প্রতি দলে ১০ জন করে ৫৩টি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ৪৫টি এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, বন্যহাতি সংরক্ষণ ও মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে হাতির চলাচলের করিডর সংরক্ষণ করা জরুরি। এ জন্য আন্তর্দেশীয় সংলাপ শুরু করতে হবে। হাতিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

 

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, শেরপুরে যে পরিমাণ বনাঞ্চল রয়েছে, তার তুলনায় হাতির খাবার ও বিচরণক্ষেত্রের পরিমাণ কম। এসব হাতি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে এসেছে। কিন্তু বর্তমানে হাতিগুলোকে ওই দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব ও সংঘাত বাড়ছে। এ অবস্থায় কার্যকর হাতি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষ ও হাতির সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

 

সভায় বন্যহাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইআরটি সদস্যদের মধ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এর আগে পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে একই ধরনের মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। পরে তিনি মধুটিলা ইকোপার্ক ও ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এরপর ইআরটি সদস্য ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ি জনপদে বন্যহাতির বিচরণক্ষেত্র পরিদর্শন করেন।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]