বিজ্ঞানের এই যুগে বন্ধ্যাত্বকে জয় করা সম্ভব

আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৬ ০৮:৩৬:২৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৬ ০৮:৩৮:০৯ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক



বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এই যুগে বন্ধ্যাত্ব মেনে নেওয়ার বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। তারা বলেছেন, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির ফলে এ চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও নিয়মিত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে সন্তান ধারণের সমস্যার সম্মুখীন হওয়া অনেক দম্পতির জন্য আশার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ফলে বিজ্ঞানের সফলতায় এখন চিকিৎসার মাধ্যমে বন্ধ্যাত্বকে জয় করা সম্ভব। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরে লিন নিসা ফার্টিলিটি সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় বিজ্ঞানের অগ্রগতি, আমাদের অবস্থান ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। লিন নিসা ফার্টিলিটি সেন্টারে আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) চিকিৎসাপদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া যমজ ভাই-বোনের আগমন উপলক্ষ্যে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন লিন নিসা ফার্টিলিটি সেন্টারের চীফ কনসালটেন্ট ও সাইন্টিফিক ডিরেক্টর ডা. রেশমা শারমীন।


অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্টজনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লিন নিসা ফার্টিলিটি সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল নোমান মোহাম্মদ ইউনুস, পরিচালক মুহাম্মদ আবুল হাসেম, পরিচালক আবদুল মোসাবির হাবিব এবং মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শেফায়েত হোসেন। ডা. রেশমা শারমীন বলেন, বিজ্ঞানের এই যুগে বন্ধ্যাত্ব মানার নয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিটি দম্পতির শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার প্রয়োজন আলাদা। তাই সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, সন্তান ধারণের এই চিকিৎসা পদ্ধতিটি একটি দীর্ঘ যাত্রা হতে পারে।


এ ক্ষেত্রে দম্পতির ধৈর্য, আশা এবং চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দায়িত্ব হলো প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় রোগীদের পাশে থাকা। সেমিনারে লিন নিসা ফার্টিলিটি সেন্টারের আইভিএফ চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন অগ্রগতি, সাফল্য ও অর্জনের নানা তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইইউআই (ইন্ট্রাইউটেরাইন ইনসেমিনেশন) পদ্ধতিতে মোট ৪৪৬টি চিকিৎসা চক্র সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮টি ক্ষেত্রে গর্ভধারণের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এসব চিকিৎসায় স্বতন্ত্র রোগীর সংখ্যা ৩৭৮। অন্যদিকে, আইভিএফ চিকিৎসায় মোট ৬৮টি কেসের মধ্যে ১৩টি ক্ষেত্রে গর্ভধারণের ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। এ পর্যন্ত সফলভাবে ৩৭টি এমব্রিও ট্রান্সফার সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে সম্পন্ন ট্রান্সফারের বিপরীতে ইতিবাচক ফলাফলের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইভিএফ চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া প্রথম শিশুর আগমন উপলক্ষ্যে ‘ফার্স্ট আইভিএফ বেবি সেলিব্রেশন’ আয়োজন করা হয়েছে। এই আনন্দের পেছনে রয়েছে মা-বাবার দীর্ঘ অপেক্ষা, ধৈর্য ও আশার পাশাপাশি চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। লিন নিসা ফার্টিলিটি সেন্টারে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার অংশ হিসেবে রয়েছে আধুনিক আইসিএসআই মাইক্রোম্যানিপুলেটর প্রযুক্তি। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষাগারে একটি শুক্রাণু সরাসরি ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। এছাড়া ভ্রূণকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে কালচার এবং উপযুক্ত সময়ে জরায়ুতে প্রতিস্থাপনের সুবিধা রয়েছে। জরায়ুর ভেতরের বিভিন্ন সমস্যা শনাক্তে আধুনিক


'অফিস হিস্টোরোস্কোপি' এবং পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য মূল্যায়নে অ্যান্ড্রোলজি সেবা দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি শুক্রাণুর ডিএনএ ফ্র্যাগমেন্টেশন বা ডিএনএ খণ্ডিত হওয়ার মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, নারী ও পুরুষ উভয়ের বন্ধ্যাত্বের সমন্বিত চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও জীবনযাপন বিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিটি দম্পতির শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]