এখন আর প্রেমপত্র আসে না, আসে শুধু তালাকপত্র

আপলোড সময় : ০৯-১০-২০২৬ ০৭:১২:৪৪ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-১০-২০২৬ ০৭:১৫:০৯ অপরাহ্ন
মো. আবদুল্লাহ, বুড়িচং (কুমিল্লা)।।


একসময়ে একটি চিঠি বা ছোট্ট একটি বার্তার জন্য তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকতেন মানুষ। প্রিয়জনের হাতের লেখা একটি চিঠি পাওয়ার আনন্দেই নিমিষে মুছে যেত সব ক্লান্তি ও কষ্ট। চিঠি পাঠাতে প্রেরকরা ছুটে যেতেন ডাকঘরে, আর সেই চিঠি পৌঁছে দিতে ডাকপিয়ন ও রানাররা গ্রাম-গঞ্জের পাড়া-মহল্লায় বাইসাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে ছুটে বেড়াতেন। ডাকবাক্সের তালা খুলে চিঠি বাছাইয়ের সেই ব্যস্ততা আজ শুধুই অতীত। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে গেছে ডাকঘরের চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ততা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার অধিকাংশ শাখা ডাকঘরের বর্তমান চিত্র বড় করুণ। পাকা সড়ক বা সংস্কারের অভাবে অনেক ডাকঘরই এখন ঝোপঝাড় ও জঙ্গলঘেরা।


অধিকাংশ ভবনেই ঝুলছে স্থায়ী তালা। ডিজিটাল যুগে এসে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের আদান-প্রদান পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বললেই চলে। বর্তমানে এসব পোস্ট অফিসে ব্যক্তিগত চিঠি বা কোনো প্রেমপত্র আসার হার শূন্যের কোঠায়। স্থানীয়রা জানান, কোনো কোনো পোস্ট অফিসে গত এক বছরেও একটি ব্যক্তিগত চিঠি বা প্রেমপত্র আসেনি। তবে চিঠি না এলেও ডাকঘরগুলোতে সচল রয়েছে দাপ্তরিক ও আইনি কিছু কার্যক্রম। বর্তমান সময়ে পোস্ট অফিসগুলোতে যা কিছু আসে, তার অধিকাংশই সরকারি-বেসরকারি নিয়োগপত্র, ব্যাংক বা বীমার নোটিশ এবং আদালত সংক্রান্ত মামলা ও সমনের চিঠিপত্র। এর বাইরে সবচেয়ে বেশি আসছে বিভিন্ন আইনি নোটিশ এবং বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজ বা 'তালাকপত্র'।


আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্রযুক্তির উৎকর্ষে গ্রামীণ জনপদের ডাকঘরগুলো আজ প্রায় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ডাকঘরের এই দুর্দিন ও জৌলুস হারানোর ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা। তাদের মতে, যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ঐতিহ্যের এই প্রতিষ্ঠানগুলো আজ ধ্বংসের মুখে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]