নিজস্ব প্রতিবেদক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফাটকেশ্রম ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আবু নৌশাদকে কেন সরিয়ে দেওয়া হলো জানেন??
এ প্রশ্ন আজ হাজার হাজার প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীর মুখে মুখে। এই অফিসার যতদিন ছিলেন বিমানবন্দরের ভেতরে পানির দাম, সেভেন আপের দাম কেউ বাড়াতে পারেনি। টয়লেটে কেউ চাঁদা আদায় করতে পারেনি। কোন ব্যাগ কেটে মালামাল চুরি করার সাহস কেউ কখনো দেখায়নি। তাকে দেখলেই বিমানবন্দরের দালাল চক্র, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ভয়ে ভয়ে কাঁপতো। বড় বড় কর্মকর্তাদের অসুবিধা হতো সব ফ্ল্যাশ হয়ে যাবে তাই জন্য। এইজন্যই তো তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই না?
৩৫ তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এই অফিসার মুন্সীগঞ্জের সন্তান। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সহকারী কমিশনার থাকাকালীন সময়ে জনপ্রিয় হয়েছেন। নভেম্বর ২০২৫-এর শুরুতে বিমানবন্দরে যোগ দিয়ে স্কুটারে চড়ে পুরো টার্মিনাল তিনি চষে বেরিয়েছেন। ৫ নভেম্বর ভ্রাম্যমাণ আদালতে বসিয়ে দোকানদারকে ২০০০০ টাকা জরিমানা করেছেন তিনি। লাগেজ চোরকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। লাগেজ হ্যান্ডেলারদের গায়ে বডি ক্যামেরা লাগিয়ে চুরির পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। হেল্প ডেস্ক সচল করেছেন। নিজের নম্বর দিয়ে যাত্রীদের সরাসরি অভিযোগ নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। জিরো টলারেন্স নীতিতে দালাল চক্র, চাঁদাবাজি, হয়রানি সব ভাসিয়ে দিয়েছেন। এমন বাঘের বাচ্চা না থাকলে বিমানবন্দর তো আর কখনো ঠিক হবে না, তাই না?
প্রবাসীদের স্বস্তি, যাত্রী সেবার মান, সবকিছু আজ আবার যেন হুমকির মুখে। ম্যাজিস্ট্রেট নৌশাদকে আবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্ব নিতে হবে, দায়িত্ব দিতে হবে এবং এটা অবিলম্বে সত্য। এটা অনুরোধ নয়, এটা হলো জনগণের দাবি। বিমানবন্দরে এরকম বাঘের বাচ্চা না থাকলে কর্মকর্তারা কখনো ঠিক হবে না। সিস্টেমটাও ঠিক হবে না। বিমানবন্দর দেশের মুখ আর প্রবাসী ভাইদের রক্ত পানি করার টাকা দালাল আর চাঁদাবাজদের পকেটে যেতে দেওয়া যাবে না।