ইরানে যেকোনো সময় হা'ম'লা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, সময়সূচি নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প

আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৮:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৮:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন কয়েক দিন আগে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

এই নির্দেশনায় হামলা চালানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচির উল্লেখ ছিল না এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানাচ্ছে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এবং সম্ভবত ইসরায়েলি নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই এ হামলা চালানো হতে পারে। আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, যুদ্ধের প্রভাবে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে।

 

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের কাজ হলো প্রেসিডেন্টের কাছে সামরিক বিকল্প তৈরি ও তা উপস্থাপন করা।

 

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কাছে সব ধরনের পথ খোলা রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে তিনি সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারেন।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরানের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় থাকায় যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন দুটি উপায়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে—সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেটাই করবেন।

 

সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল যুদ্ধ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে কয়েক ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছে।

 

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এতে ‘দীর্ঘমেয়াদি’ পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানি জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন। ওই প্রস্তাবে পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

দ্বিতীয় একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নেই, তবে আমরা তা উড়িয়ে দিচ্ছি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।’

 

পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন। টানা কয়েক সপ্তাহ কথা না হওয়ার পর কয়েক দিনের মধ্যে তাঁদের এটি দ্বিতীয় ফোনালাপ।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ‘৭ অক্টোবরের গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা’ নিয়ে কথা বলেছেন।

প্রথম ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, নেতানিয়াহু ইরান ইস্যুতে তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করার পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে তার ফোনে আলাপ হয়।

যুদ্ধবাজ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গত সোমবার মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছিলেন।

ইরানে যদি আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে করবে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এতে অংশ নেবে।

দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশ ও আতঙ্কে রয়েছে, যার ফলে তারা আগে হামলা চালিয়ে বসতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইরানিরা ইতিমধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার শিকার হয়েছে। তারা তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হতে চায় না।

যুদ্ধ আবার শুরু হলে তা ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, প্রতিশোধ হিসেবে ইরান দেশটিতে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে।

নতুন করে এই উত্তেজনা বৃদ্ধি কিংবা কেবল টান টান উত্তেজনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটাও রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুকে সুবিধা দিতে পারে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁকে ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ কমে যেতে পারে।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]