প্রেমিকাকে হ'ত্যা'র পর পরিবারে ফোন-‘লা'শ নিয়ে যা’

আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৮:৩৬:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ০৮:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনালে আবাসিক হোটেলের ওয়াশরুমে গলাকেটে কুলসুমা আক্তার (২২) হত্যায় অভিযুক্ত কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর থানার পুলিশ।

 

উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্প থেকে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে এপিবিএন’র সহায়তায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সদর থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী। গ্রেপ্তার মো. ইরফান (২৫) কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পের (ক্যাম্প নম্বর-৪) মৃত লেদু হোসেন ও জরিনা খাতুনের ছেলে। তার এফসিএন নম্বর-১৮৪৭১৭।

 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি আলী জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর থানার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ‘স্ট্যান্ড পার্ক রির্সোট’ এর ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে পুলিশ কুলছুমা আক্তারের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। এর আগে কুলসুমার সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে রুমে উঠেন কথিত প্রেমিক ইরফান। কুলসুমকে নৃশংসভাবে হত্যার পর কুলসুমার বোনকে ফোন করে ইরফান বলেন, ‘তোর বোনকে খুন করে ফেলেছি, বাস টার্মিনালে গিয়ে তোর বোনের লাশ নিয়ে যা।’ ঘটনার পর তাকে গ্রেপ্তারে সদর থানার পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে।

 

এরইমধ্যে গত ১ অক্টোবর ইরফানকে প্রধান আসামি করে হত্যা মামলা (মামলা নম্বর-২/২০২৬) করা হয়। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর থেকে গোপন সংবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নানা জায়গায় অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ও এপিবিএন যৌথ অভিযানে উখিয়ার মধুছড়া ক্যাম্প থেকে ইরফানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

নিহত কুলসুমার পরিবারের তথ্য মতে, ২০২৩ সালে ঈদগাঁও চাক্কার দোকান এলাকার হারুনের সঙ্গে কুলসুমার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন তিনি। ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তারিখ ছিল। আদালতে হাজিরা দিতেই ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে এসে ইরফানের সঙ্গে হোটেলে উঠেছিলেন কুলসুমা।

 

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন (বুধবার) দুপুরে ইরফান ও কুলসুমা দুই বছরের এক শিশুসহ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে কক্সবাজার বাস টার্মিনালের ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্টে’র তৃতীয় তলার ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। পরে ওই কক্ষ থেকে শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান হোটেলের পরিচ্ছন্নতকর্মী মমতাজ বেগম। দরজা খোলা থাকায় ভেতরে প্রবেশ করলে ওয়াশরুমে কুলসুমার গলাকাটা রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান তিনি। বিষয়টি হোটেল ম্যানেজারকে জানানো হলে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

ঈদগাঁওর এক সূত্র জানায়, স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় আদালতে মামলা শুরুর পর রোহিঙ্গা ইরফানের সঙ্গে কুলসুমার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে। ক্যাম্পে ইরফানের একাধিক স্ত্রী রয়েছে এবং তিনি মাদক কারবারে সম্পৃক্ত। ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে ইরফান কুলসুমার বাবার বাড়ি পূর্ব চান্দেরঘোনায় দেখা করতে আসেন। সেখানে অপরিচিত যুবককে স্থানীয়রা পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে তার কাছ থেকে ইয়াবা পান। এসময় তাকে মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর কুলসুমার সঙ্গে তার মনোমালিন্য ঘটে।

 

সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় আরেক যুবকের সঙ্গে কুলসুমার সম্পর্ক শুরু হলে ইরফান তার উপর খুবই ক্ষুব্ধ ছিল। ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে আসছে জেনে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে ইরফান। আবার আগের মতো সম্পর্ক করার প্রতিশ্রুতিতে হোটেলে উঠে। সে সময় কুলসুমার মোবাইলে ওই ছেলের কল এলে তা নিয়ে দু’জনার মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে তাকে ঠাণ্ডা মাথায় নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করে নীরবে বেরিয়ে যান ইরফান।

 

নিহত কুলসুমা ঈদগাঁও পূর্ব চান্দেরঘোনার মোহাম্মদ আলমের মেয়ে। পরদিন (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানাজা শেষে এলাকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, কুলসুমাকে নৃশংসভাবে হত্যাকারী হিসেবে অভিযুক্ত ইরফানকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আদালতের উপস্থাপনের পর কী কারণে হত্যা করা হয়েছে তা বের করার চেষ্টা করা হবে। 

 

 

 

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]