বুড়িগঙ্গা-তুরাগ দূ'ষ'ণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত রোডম্যাপের আহ্বান

আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১১:১৬:১৯ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ১১:১৬:১৯ পূর্বাহ্ন
বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

‘বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো) এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ারপোর মহাপরিচালক।

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহর ও এর আশপাশের জেলার পরিবেশের সামগ্রিক চিত্র কর্মশালায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন সক্ষমতা নিয়ে কাজ করলেও সবার লক্ষ্য এক-বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ দেশের নদ-নদীকে দূষণ ও দখলমুক্ত করা।

তিনি বলেন, নদী রক্ষায় কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণ ফিরিয়ে আনা। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ নিশ্চিত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। নদী ও পরিবেশ রক্ষা করতে হলে এখন থেকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ঢাকার নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে শুধু সরকারি পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। নদীর সঙ্গে মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নদী বাঁচলে জীবন বাঁচবে, জীবন বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।”

প্লাস্টিক দূষণের বিষয়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য নদী দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই প্লাস্টিক উৎপাদনের উৎস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এর ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একই সঙ্গে নদী ও জলাধারে বর্জ্য ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় রোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে নদীর তীর সংরক্ষণ ও ভূমিক্ষয় রোধে বিভিন্ন ধরনের ঘাস ব্যাপকভাবে রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতিনির্ভর এ ধরনের সমাধান নদী ও পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদী রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। নদীর প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। শিল্প-কারখানার বর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন দূষণকারী উপাদান যাতে নদীতে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মশালায় CEGIS-এর নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ রিভার ফেডারেশন, নোঙরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতি, দূষণের উৎস, নদী রক্ষায় বিদ্যমান উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সমন্বিত উদ্যোগ, জনসম্পৃক্ততা, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : [email protected]