ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সং'ঘ'র্ষ': অ'স্ত্র হাতে ১৯ বহিরাগত শনাক্ত

আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ১১:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ১১:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র হাতে থাকা ১৯ বহিরাগতকে শনাক্ত করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন এলাকার এসব ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

 

ঘটনার সূত্রপাত হয় এক ছাত্রদল নেতার হাতে ছাত্রশিবিরের এক নেতার থাপ্পড় খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পরে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেশীয় ধারালো অস্ত্র হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়।

 

অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন।

 

ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে অস্ত্র হাতে শনাক্ত হওয়া ১৯ জনের মধ্যে রয়েছেন পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মন্ডল, নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয়, মদনডাঙা হাই স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইসুল এবং চরশান্তিডাঙার মিকদাদ।

 

তবে শনাক্ত ব্যক্তিদের একজন পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার অস্ত্র বহনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেননি। স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা উসকানি দেওয়ায় তাদের ধাওয়া করা হয়েছিল। সেখানে পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন এবং তাদের হাতে লাঠি ছিল, অস্ত্র ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় বহিরাগত আনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ। তিনি বলেন, ছাত্রদল কোনো বহিরাগত নিয়ে আসেনি। বিক্ষুব্ধ জনতা হয়তো সেখানে আসতে পারে। পুরো ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কমিটি গঠন করেছে এবং তারা তদন্তের ওপর আস্থা রাখছেন।

 

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, অস্ত্রসহ বহিরাগতদের প্রবেশের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। আহতদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, তদন্তের কাজ শুরু হয়েছে। ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। বহিরাগতদের প্রবেশসহ সংঘর্ষের সার্বিক বিষয় তদন্ত করা হবে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর রাত থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে টহল দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর ও সচেতন রয়েছে।

 

 

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com