বাড়ছে পানির চাপ, ভা'ঙ'নে'র শ'ঙ্কা'য় বাগেরহাটের দুই বাঁধ

আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০৬:২০:১১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০৬:২০:১১ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাগেরহাটের উপকূলবর্তী এলাকায় চিতলমারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধসহ নদীর কোল ঘেঁষা পাঁচ কিলোমিটার গ্রামরক্ষা বাঁধ এখন হুমকির মুখে। পানির চাপে এলাকাটির একটি বেড়িবাঁধসহ গ্রামরক্ষা বাঁধ ভাঙনের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

তারা বলছেন, বাঁধগুলোতে ইতোমধ্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে অমাবস্যা, পূর্ণিমায় জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বিলপাড় ও নদী পাড়ের মানুষ আতঙ্কিতভাবে দিন কাটাচ্ছে। বাঁধ দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা ভেঙে গেলে প্লাবিত হয়ে ক্ষতি হতে পারে কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ।

 

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, উপজেলার সুরিগাতী, রায়গ্রাম, খিলিগাতী ডুমুরিয়, পার ডুমুরিয়া, ঝালডাঙ্গা, আরুলিয়া, খড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের ৯০ দশকের পর  জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জোয়ার ভাটার পানির চাপে তলিয়ে যেত। তারপর পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর পাশ দিয়ে  গ্রাম রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করে। এই বছর পানির চাপ বেশি হওয়ার কারণে ঝালোডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম, আরলিয়া স্লুইস গেটের পাশে, গোদাড়া পার্কসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় দিয়ে পানি উপচে পড়ে নদীর পাশের গ্রামসহ বিলে প্রবেশ করে।

 

ডুমুরিয়া স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ রানা জানান,নদী তীরবর্তী বাসিন্দা ও সাবেক প্রভাষক মুকুলেশ ঢালী জানান, নদীর তলদেশ ভরাট, নদী শাসনের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল বেড়িবাঁধ গোদাড়া পার্কের বাঁধসহ গ্রাম রক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান এখন ঝুঁকিপূর্ণ। গ্রামগুলোর উত্তর পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল রাস্তা। সড়কটি এলজিইডি পাকা করেছে।

 

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, দক্ষিণ পাশে চিত্রা নদীর গ্রামরক্ষা বাঁধ। মাঝখানে ১২টি গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করে। দ্রুততম সময়ে গ্রাম রক্ষাবাঁধে সংস্কার না করলে আগামী অমাবস্যায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হতে পারে গ্রামগুলো।

 

একইভাবে মৎস্য চাষি আফতাব শেখ, প্রকাশ রায়সহ শতাধিক এলাকাবাসী জানান, গেল পূর্ণিমায় পানির চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গোদাড়া পার্ক, খড়িয়া স্কুলের পাশের রাস্তা, ঝালোডাঙ্গা গুচ্ছগ্রামের পাশের রাস্তাসহ বেড়িবাঁধ ও গ্রামরক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি উপচে পড়ে বিলে প্রবেশ করেছে। এতে হাজার হাজার মৎস্য চাষির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, প্রতিবছরই গ্রাম রক্ষা বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড মাটির কাজ করে থাকে। এবছর পানির চাপ বেশি হওয়ার কারণে অনেক জায়গা দিয়ে পানি উপচে পড়ছে। বেশ কিছু জায়গা ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুততম সময়ে মূল বেড়িবাঁধ ও গ্রাম রক্ষা বাঁধে কাজ করা দরকার। আগামী অমাবস্যায় পানির চাপ বেশি হতেও পারে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদীজা আক্তার জানান, এ ব্যাপারটা নিয়ে আমি দ্রুততম সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করবো ও স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল ও সাব ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার মিরাজ জানান, দ্রুততম সময় বাঁধটি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com