কোটি টাকায় নির্মিত কৃষিপণ্য কেন্দ্র ৬ বছরেও চালু হয়নি, নষ্ট হওয়ার শঙ্কা মেশিনপত্র

আপলোড সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০৬:০২:১৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৫-০৮-২০২৬ ০৬:০৫:১৪ অপরাহ্ন
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি


কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায় প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্রটি ছয় বছরেও চালু হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় কেন্দ্রটিতে স্থাপন করা মেশিনপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি।


. সূত্রে জানা গেছে, জনবল সংকট ও নীতিমালা জটিলতার কারণে কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও যথাযথভাবে বাজারজাত করার যে উদ্দেশ্যে কেন্দ্রটি নির্মাণ


করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে বলেও জানা গেছে। জানা যায়, ‘কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া ২০১৮ সালে কুড়িগ্রাম ও জামালপুর জেলার আটটি উপজেলায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের চারটি এবং জামালপুরের চারটি উপজেলায় এসব কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়


মন্ত্রণালয়ের আর্থিক সহায়তায় প্রতিটি কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে প্রয়োজনীয় মেশিনপত্র স্থাপন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট আরডিএর কাছে কেন্দ্রগুলো হস্তান্তর করে। তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও জনবল সংকটের কারণে এগুলো চালু করতে পারেনি আরডিএ। কুড়িগ্রাম জেলার বাকি তিনটি কেন্দ্রের অবস্থাও একই বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগের নীতিমালা অনুযায়ী আরডিএর নিজস্ব জনবল দিয়ে কেন্দ্রগুলো পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে নীতিমালা পরিবর্তন করে সমবায়ভিত্তিক সমিতি, এনজিও অথবা আগ্রহী উদ্যোক্তাকে টেন্ডারের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদে কেন্দ্রগুলো লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াটি কবে শেষ হবে এবং কেন্দ্রগুলো কবে চালু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রগুলোতে ধান, গম ও সরিষা ভাঙানোর পাশাপাশি মসলা, চিপস ও বেকারি পণ্য


প্রক্রিয়াজাতের সুবিধা রয়েছে। এছাড়া দুধ, মাছ ও মাংস সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেম্বারসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাত ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রটি চালু হলে প্রায় ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার কথা। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রটি ব্যবহার না হওয়ায় সেখানে স্থাপন করা মেশিনপত্রের কার্যকারিতা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের পাহারাদার মো. মাসুদ রানা ও রাসেল মিয়া বলেন, তাঁদের দায়িত্ব শুধু কেন্দ্রটি পাহারা দেওয়া। এর বাইরে তাঁদের কোনো কাজ নেই। তবে কেন্দ্র থেকে কিছু জিনিস চুরি যাওয়ার কথাও তাঁরা স্বীকার করেন। এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি প্রকল্পটি সম্পর্কে অবগত নন এবং এ বিষয়ে কিছু জানেন না। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি। রংপুর পল্লী উন্নয়ন একাডেমির পরিচালক মোঃ জাহেদুল হক চৌধুরী বলেন, একাডেমির আগের নীতিমালা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। তাই নীতিমালা পরিবর্তন করে টেন্ডারের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলো লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে কবে নাগাদ কেন্দ্রটি চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দ্র পরিচালনা উলিপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি এ টি এম আরিফ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো প্রকার যোগাযোগ করেনি।’ এ অবস্থায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও


সংরক্ষণ কেন্দ্রটি দ্রুত চালু না হলে একদিকে যেমন সরকারের বিনিয়োগের সুফল থেকে কৃষকরা বঞ্চিত হবেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com