নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা ও অন্যান্য থ্রি-হুইলার চালকদের আন্দোলনের মুখে অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে থ্রি-হুইলার চালকেরা আন্দোলনে নামেন। এ সময় মহাসড়কে চলাচলকারী অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো ঘুরিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
এতে বরিশাল থেকে বিভিন্ন উপজেলা ও অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা বিপাকে পড়েন।
থ্রি-হুইলার চালক আবদুল্লাহ মামুন অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ থেকে ছেড়ে আসা মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক চালকদের বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়তে হয়। নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে থ্রি-হুইলার থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এমনকি শ্রমিকেরা লাঠি দিয়ে গাড়িতে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি চালকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
তিনি বলেন, যাত্রী পরিবহন নিয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
থ্রি-হুইলারের আরেক চালক নুর আলম বলেন, এর আগে বাস মালিক ও শ্রমিকেরা মহাসড়কে থ্রি-হুইলার ও অন্যান্য অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে আন্দোলন করেন। সোমবার দুপুর থেকে বাস মালিক ও শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামেন।
এতে বরিশাল থেকে বিভিন্ন রুটে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার থ্রি-হুইলার চালকেরাও আন্দোলনে নামেন।
অন্যদিকে বাস মালিকদের অভিযোগ, মহাসড়কে অনুমোদনহীন থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি বেড়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।
বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, তারা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে বাস পরিচালনা করছেন। কিন্তু মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে যাত্রী সংকটের পাশাপাশি দুর্ঘটনাও বেড়েছে। এ বিষয়ে থ্রি-হুইলার মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে তাদের চলাচলের বিষয়ে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু থ্রি-হুইলার চালকেরা সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না।
তিনি অভিযোগ করেন, থ্রি-হুইলার চালকেরা অনেক সময় বাসের কাউন্টার এলাকায় অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় চলে যাচ্ছেন। নিষেধ করা হলেও তারা কাউন্টার স্টাফদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।
মোশারফ হোসেন আরও বলেন, মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে দুর্ঘটনা বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে বরিশাল থেকে বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে কয়েকটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস মালিক-শ্রমিকদের আন্দোলনের পর নতুন করে থ্রি-হুইলার চালকরাও পাল্টা আন্দোলনে নামায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহন সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
এদিকে, আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে।
এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়লেও দ্রুত বিরোধ নিরসন করে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।