নিজস্ব প্রতিবেদক
সহস্র বছরের অন্ধকার পেরিয়ে যন্ত্রণাকাতর ধূসর গ্রহ পেল নতুন আলোকস্তম্ভ
জাবালে নূরের হেরা গুহা থেকে বিস্ফারিত আলো
কী এক কসমিক স্ফুলিঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ে মহাদেশ-মহাসাগর পেরিয়ে দিগ্বিদিক।
মূলত আলো ও অন্ধকারের কোনো পরিসমাপ্তি নেই
সেই পুরোনো অন্ধকার, সেই অন্তহীন আলোর জন্ম মানুষেরই অলীক চেতনার গভীরে।
দেশে-দেশে কালে-কালে মানুষেরা বারবার সেই আলো-অন্ধকারের ইতিহাস রচনা করে।
খলিফা ওমরের পদভারে জেরুজালেমের পুরোনো দেয়ালে
ধ্বংসস্তূপের শ্যাওলায় জেগে ওঠে নতুন সভ্যতার বুনিয়াদ।
মনে পড়ে গুয়াদালেতের যুদ্ধে অত্যাচারী রাজা রডারিকের পরাজয়?
সেই অত্যুজ্জ্বল দগদগে দমকা হাওয়ার জুলাই ৭১১ (সাতশো এগারো)
বর্বর ভিসিগথ সাম্রাজ্যের পতিত ভূমি আইবেরিয়া আন্দালুসে জেগে ওঠা ইসলামি সভ্যতার সূর্য
সব অন্ধকার পুড়িয়ে দিয়ে এনেছিল নতুন সকাল
সেনাপতি জুলিয়াস সিজার থেকে পুত্র অগাস্টাস, জুলাই-আগস্টের পতনের সাক্ষ্য।
অন্ধকারে পথভ্রষ্ট ইউরোপে জেগে ওঠে পরিপূর্ণ নতুন সভ্যতার উদ্দীপনা।
ক্রুসেডের হিংস্রতায় যে আলো নেভেনি
শয়তানি অন্ধকার বাদশা নামদারের বিলাসী ভ্রষ্টতা থেকেই জন্ম নেয়।
আট শতাব্দী পেরিয়ে জুলাই ১৪৯২
কর্ডোভায় আলহামরার গম্বুজ ফিকে হয়ে আসে,
হায় সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ, সুলতান গাজী সালাউদ্দিন,
কাশেম সুলাইমানি এবং শরিফ ওসমান হাদীর নাক্ষত্রিক চোখে ঝরে বিপ্লবের অমলিন আলোকোচ্ছটা।
শতাব্দী থেকে শতাব্দী
এক জুলাই-আগস্ট থেকে আরেক জুলাই-আগস্টের দায়ভার আমরা বয়ে নিয়ে চলি—
ভোগবাদী বিলাসের ঘেরাটোপ যাদের চারদেয়ালে আটকে রাখতে পারে না,
ফোরাতের তীরে এজিদের প্রতারণায় ইমাম হোসেনের শাহাদাত পরাজয় নয়।
পানি লাগবে, পানি বলতে বলতে হাসিনার পুলিশের
গুলিতে তপ্ত রাজপথে ঢলে পড়া মীর মুগ্ধ,
উদ্ধত বন্দুকের সামনে দু’হাত প্রসারিত আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা
কখনো পরাজিত হয় না।
আমরা তাদেরই স্বজন, কখনো ক্লান্ত নই। হতাশ কিংবা বিষণ্ণ নই।
হেরার গুহা থেকে বিচ্ছুরিত আলোর উত্তরাধিকার নিয়ে
নবী মুহাম্মদের উম্মত কখনো থামেনি, থামবে না কখনো।
মানুষের মুক্তির শেষ ঠিকানা পর্যন্ত
আলো-অন্ধকারের এ লড়াই চলবেই।