নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যা মামলা আপস করতে হুমকির বাদী পক্ষের প্রায় ২২ বিঘা জমির ১৩ হাজার কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অবশেষে সন্দেহজনকভাবে তুহিন হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে শুক্রবার দুপুরে আটক করেছে থানা পুলিশ। তার বাড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শ্যামবাটি গ্রামে।
এমন ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের গোপীনগর পানবোরাম গ্রামে।
জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা কলাবাগানে ঢুকে এসব কলাগাছ কেটে ফেলে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানবোরাম এলাকায় মানববন্ধন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, তার পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। মানববন্ধনে স্থানীয় লোকজন ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার কলাবাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। এতে আমার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি জানান, প্রায় ২২ বিঘা জমিতে তার কলাবাগানে প্রায় ১৩ হাজার গাছ ছিল। প্রতিটি গাছেই কলা ধরেছিল এবং আরও প্রায় তিন মাসের মধ্যে সব কলা উত্তোলন করা সম্ভব হতো। এর আগেই রাতের আঁধারে গাছগুলো কেটে ফেলায় তাঁর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা কলাগাছ কেটে ফেলার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
স্থানীয়রা বলেন, একজন কৃষক দীর্ঘদিন পরিশ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করে কলাবাগান গড়ে তোলেন। ফলন আসার পরপরই এভাবে গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়ামুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কলাবাগান ঘুরে দেখেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
ওসি নিয়ামুল হক বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে সন্দেহ মূলকভাবে তুহিন হোসেন নামে এক যুবককে শুক্রবার দুপুরে আটক করা হয়েছে। সঠিক তদন্তসাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।