আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৯টি উপজেলার কয়েক লক্ষ মানুষ সেবা নিতে আসেন। প্রয়োজনে চিকিৎসা নিতে বিভাগীয় শহর রংপুরে যেতে হয় এম্বুলেন্সে। সদর হাসপাতালে প্রয়োজনের তুলনায় অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা কম থাকায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের একটি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চালকদের মধ্যে মারধর ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে রোগী অন্যত্র নেওয়ার সময় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে ভাড়া নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কমে রোগী নিতে চাইলে কিংবা বাইরের জেলার কোনো অ্যাম্বুলেন্সে রোগী উঠালে সংশ্লিষ্ট চালককে বাধা ও হেনস্তা করা হয়।
রোগীর স্বজন মোঃ রমজান আলী বলেন, “জরুরি অবস্থায় রোগী নিয়ে যেতে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজতে হয়। তখন চালকরা যে ভাড়া বলেন, বাধ্য হয়ে সেটিই দিতে হয়। দরদাম করার সুযোগ থাকে না।”
আরেক ভুক্তভোগী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সংকটের সুযোগ নিয়ে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি দেখার মতো কেউ নেই।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, রাতে ওই এলাকায় মাদক সেবনের আসর বসে। পাশাপাশি হাসপাতালের নার্সিং শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল থাকায় সেখানে ইভটিজিংয়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, “স্ট্যান্ডে কিছু লোক নিজেদের মতো করে কমিটি করেছে। তাদের নির্ধারিত নিয়মের বাইরে গেলে চালকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই ভয়ে কথা বলতে চান না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা।
অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।