জামালপুরের যৌ'নপল্লীতে মা'দক ব্যবসার অ'ভিযোগ প্রশাসনের হ'স্তক্ষেপ কামনা

আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৩:০৩:২৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ০৩:০৬:২৬ অপরাহ্ন
মাসুদুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক :


জামালপুরের যৌনপল্লীতে মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেহ ব্যবসার জন্য গড়ে ওঠা এ পল্লীতে বর্তমানে মাদক ব্যবসারও বিস্তার ঘটেছে। সেখানে গাঁজা, দেশি-বিদেশি মদসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্য কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ রয়েছে। মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও গ্রেপ্তার হলেও মাদক ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। এ ঘটনায় সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামালপুরের যৌনপল্লীতে প্রায় ১১টি বাড়ি ও ১৭৫টি ঘর রয়েছে। সেখানে ১২৫ থেকে ১৩০ জন নারী যৌনপেশায় নিয়োজিত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লীর কিছু ঘরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় গাঁজা ও মদ বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন বয়সী মানুষের মাদক সেবনের উদ্দেশ্যে সেখানে যাতায়াত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। একটি অনুমোদিত মদের কাউন্টার থাকলেও সেখান থেকে মদ বিভিন্ন ঘরে পৌঁছে দিয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন যৌনকর্মী জানান, পল্লীতে অনেক নারী নিয়মিত খদ্দেরের অপেক্ষায় থাকলেও সবসময় কাজ পান না। তাদের অভিযোগ, মাদকের সঙ্গে জড়িতদের অনেক সময় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে যুক্ত না থাকা অনেক নারী আর্থিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন বলেও তারা জানান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে একটি চক্র নিয়মিত অর্থ আদায় করে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, মাদকসেবীদের নিয়মিত যাতায়াতের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এদিকে যৌনপল্লীতে অল্প বয়সী মেয়েদের অবস্থান নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের প্রকৃত বয়স, জন্মনিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজপত্র নিয়ে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রেমের প্রলোভন, প্রতারণা কিংবা মানবপাচারের শিকার হয়ে কিছু নারী এখানে এসে আটকা পড়তে পারেন। পাশাপাশি দালালচক্র, অতিরিক্ত ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ ও পানির বিল এবং চড়া সুদের ঋণের কারণে কিছু নারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে গত ১৩ আগস্ট জামালপুর রানীগঞ্জ বাজারের সূর্যের হাসি সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোছা. রেখা বেগমের নাম ব্যবহার করে জামালপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


অভিযোগে আমলাপাড়া ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং যৌনপল্লীতে মাদক ব্যবসা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। অভিযোগের অনুলিপি জামালপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জামালপুর জেলা প্রশাসক এবং সূর্যের হাসি সমাজ কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোছা. রোজিনা বেগমের কাছে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ই-সেবা কেন্দ্রের গ্রহণ সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত একটি কাগজও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সূর্যের হাসি সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মোছা. রেখা বেগম বলেন, আমার নাম ব্যবহার করে কে বা কারা অভিযোগ দিয়েছে, আমি জানি না। অভিযোগ অস্বীকার করে আমলাপাড়া ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামাল পাশা বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যা অপপ্রচার করছে। আমি এখানে দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিযান পরিচালনা করে একাধিক মাদক মামলা দিয়েছি। যৌনপল্লীতে কতজন নারী রয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ১০০ জনের অধিক নারী রয়েছে।


সেখানে প্রতিদিন একটি চক্রের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অর্থের বিষয়ে আমি জানি না। আমরা কোনো অর্থ নেই না। যৌনপল্লীতে মাদক কেনাবেচার বিষয়ে তিনি বলেন, ভিতরে অনুমোদিত একটি কাউন্টার রয়েছে। প্রায় ঘরে ঘরে মদ ও গাঁজা পাওয়া যাচ্ছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার অজান্তে কেউ বিক্রি করতে পারে। যৌনপল্লীতে কতজনের মদের বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই। জামালপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, আমরা কিছুদিন আগেও সেখানে অভিযান পরিচালনা করে দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছি। সেখানে অভিযান করাটাও কঠিন। অনেক সময় দেখা যায়, তারা সেখানে বিক্ষুব্ধ আচরণ করে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। গত আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। জামালপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: নাজমুস সাকিব জানান, মাদক এর বিরুদ্ধে জামালপুর সদর থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন সোমবার দুপুর ২টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, সময়ে সময়ে অভিযান করা হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে। ভবিষ্যতে আরও অভিযান জোরদার করা হবে।


স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, যৌনপল্লীতে মাদক ব্যবসা, মানবপাচার, অপ্রাপ্তবয়স্কদের অবস্থান এবং নারীদের ওপর নির্যাতনসহ উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারী, দালালচক্র ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। মাসুদুর রহমান নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com