শিক্ষামন্ত্রীকে ধন্যবাদ: আজমিরা খাতুনের

আপলোড সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ০৬:১৪:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ০৬:১৭:৫১ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক 

আজমিরা খাতুন* সহকারী শিক্ষিকা (ইংরেজি) প্রথমেই কচুয়া উপজেলার কৃতি সন্তান এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, আন্তরিক উদ্যোগ ও নিরলস প্রচেষ্টার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সম্প্রতি কচুয়া উপজেলার মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে সেই আয়োজন আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষা নিয়ে মাননীয় মন্ত্রীর দিকনির্দেশনা আমাকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় ছিল—তিনি মাঠপর্যায়ের শিক্ষকদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। একজন নীতিনির্ধারক যখন সরাসরি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যার কথা শোনেন, তখন তা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আমি আজমিরা খাতুন। ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA)-এর মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত একজন সহকারী শিক্ষিকা (ইংরেজি)। নতুন শিক্ষক হলেও এর আগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার সুযোগ হয়েছে।


মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার নানা বাস্তবতা কাছ থেকে দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সদয় বিবেচনার জন্য বিনয়ের সঙ্গে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরছি। ১. শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক মানবিক শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রতিটি শিক্ষক যেন প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নিজের সন্তানের মতো আন্তরিকতা, মমতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে পাঠদান করেন। একজন শিক্ষকের একটি উৎসাহব্যঞ্জক বাক্যও একজন শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারে। ২. দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম শ্রেণিকক্ষে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের জন্য রিডিং, উচ্চারণ, বানান এবং উত্তর লেখার দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। দলভিত্তিক অনুশীলন ও নিয়মিত শিক্ষক তদারকি এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ৩. শাস্তির পরিবর্তে কাউন্সেলিং ও ইতিবাচক প্রেরণা অমনোযোগী বা পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শাস্তি না দিয়ে তাদের মানসিক অবস্থা বোঝা, কাউন্সেলিং করা এবং ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। ৪. বিদ্যালয়–অভিভাবক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সার্বিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় ও অভিভাবকের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা জরুরি।



কোনো শিক্ষার্থী কয়েক দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে শিক্ষক যদি অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে শিক্ষার্থীর দায়িত্ববোধ ও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে। ৫. শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করা অতিরিক্ত বাড়ির কাজের পরিবর্তে শ্রেণিকক্ষেই শেখার পরিবেশ আরও কার্যকর করতে হবে। বাড়ির কাজ হবে অনুশীলনভিত্তিক ও আনন্দময়, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনাকে বোঝা নয়, শেখার আনন্দ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। ৬. স্বীকৃতি ও পুরস্কারের সংস্কৃতি গড়ে তোলা নিয়মিত উপস্থিতি, ভালো ফলাফল, শৃঙ্খলা, পরিচ্ছন্নতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য ছোট ছোট পুরস্কার বা স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। একটি খাতা, একটি কলম কিংবা একটি প্রশংসাপত্রও একজন শিক্ষার্থীর জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। ৭. শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির চর্চা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। কারণ একজন দক্ষ শিক্ষকই একটি দক্ষ, সৃজনশীল ও মানবিক জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আপনি শিক্ষার উন্নয়নে যে আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা ও কর্মতৎপরতার পরিচয় দিচ্ছেন, তা আমাদের মতো নতুন শিক্ষকদের আশাবাদী করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, নীতিমালার পাশাপাশি যদি শ্রেণিকক্ষের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হবে।



আমরা শিক্ষকরা শুধু পাঠদান করতে চাই না; আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা হবে জ্ঞানসমৃদ্ধ, নৈতিক, মানবিক, দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। পরিশেষে, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফল নেতৃত্ব কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার তাওফিক দান করেন। বিনীত, *আজমিরা খাতুন সহকারী শিক্ষিকা* *ইংরেজি* *কহলথুড়ী হামিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়* *কচুয়া, চাঁদপুর*।

সম্পাদকীয় :

প্রকাশক ও সম্পাদক

মোঃ গোলাম মাওলা শাওন

মোবাইল : ০১৭১১-০০৬২১৪

অফিস :

প্রধান কার্যালয়


৩১/১ শরীফ কমপ্লেক্স ৬ষ্ট তলা পুরানা পল্টন ঢাকা ১০০০

মোবাইল : ০১৯৯৯-৯৫৩৯৭০

ই-মেইল : banglaralonewsbd@gmail.com