কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক (মেইন গেট) ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের গণমাধ্যমকর্মীদের প্রকাশিত সংবাদের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তিন সদস্যের মনিটরিং কমিটির তদন্তে নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর অনুমোদিত নকশা (ডিজাইন) ও ড্রয়িং অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়নি। ড্রয়িংয়ে শর্ট কলামের দৈর্ঘ্য ৩ ফুট উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে মাটি কাটার গভীরতা কমিয়ে শর্ট কলামের দৈর্ঘ্য মাত্র ৭৯ ইঞ্চি রাখা হয়েছে। এভাবে নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত চাপ বা ধাক্কায় প্রাচীরটি হেলে পড়া কিংবা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে গণমাধ্যমে নির্মাণকাজের নিম্নমান ও অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ডা. রেজওয়ানা রশীদের নির্দেশনায় তিন সদস্যের একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সভাপতি করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জিসেলী ঘোষ মুনমুনকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. মন্নুর আহমেদ এবং সদস্য করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক এটিএম কামরুজ্জামানকে।
গত ১৮ জুন সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে নির্মাণকাজে কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় এবং অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
কমিটির সদস্য সচিব ও সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মন্নুর আহমেদ বলেন, "আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী নির্মাণকাজের প্রতিটি বিষয় কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে যাচাই করা হয়েছে। পরিদর্শনে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণকাজের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।"
কমিটির সভাপতি ডা. জিসেলী ঘোষ মুনমুন বলেন, "সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরেজমিন পরিদর্শন ও কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।"
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ বলেন, "অনিয়মের পর ইউএনও এবং পৌরসভার প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সীমানা প্রাচীরের প্রথম দফা কাজে গভীরতা কম ছিল। এরপর এখন আমাদের নির্দেশনায় পূনরায় সঠিক ভাবে করছে।
সরকারি উন্নয়নমূলক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, "জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ বরদাশত করা হবে না। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে স্থানীয়দের মতে, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণেই নির্মাণকাজের অনিয়ম প্রকাশ্যে এসেছে এবং তদন্তে তার সত্যতাও মিলেছে। তারা সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।